মিনেসোটায় মসজিদে বোমা হামলা খ্রিস্টান জঙ্গীদের, আতঙ্কে মুসলিমরা
ডেস্ক: মুসলিমবিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদী হানাদার যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটন সিটিতে এক মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দার-আল ফারুক নামের ওই মসজিদে শনিবার ভোর ৫টার পর ফজরের নামাযের সময় ইমামের অফিস কক্ষে উগ্র খিস্টান সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চলালে তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্ণবাদী খ্রিস্টান সন্ত্রাসীরা মসজিদের কাঁচের জানালা ভেঙে একটি বোমা ভেতরে ছুড়ে দিলে তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ইমামের কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে ব্লুমিংটন সিটির পুলিশ প্রধান জেফ পটস জানায়। এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রিচার্ড থমটন ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, বোমাটি হাতে তৈরি ছিল বলে তারা ধারণা করছে। এফবিআইয়ের জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্স কাজ করছে। সন্ত্রাসীরা কেন এই হামলা করেছে তা উদঘাটনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
স্থানীয় প্রশাসনও এ ঘটনায় আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীর তথ্য দেয়ার জন্য মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মসজিদ কমিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ওমর জানান, বিস্ফোরণের পরপরই একটি পিকআপ ভ্যানকে দ্রুত মসজিদের পার্কিং এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে মসজিদের ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কিছু কাগজ পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা।”
মসজিদ এলাকা ঘিরে বিভিন্ন বাহিনীর তদন্তের মধ্যেই মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন স্থানীয় মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির পরিচালক আসাদ জামান। তিনি বলেন, “ভয়ঙ্কর শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই আশপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখাও দেখেছেন অনেকে।”
গত এক বছরে ওই এলাকায় মুসলমানদের উপর ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে মোহাম্মদ ওমর বলেন, “মাঝেমধ্যেই আমরা টেলিফোনে হুমকি পাই, ই-মেইলও আসে। সেখানে অশ্লীল ভাষায় বলা হয় এদেশ থেকে চলে যেতে। আমরা নাকি এই সমাজের বোঝা, আমরা নাকি আমেরিকার সমাজ-ব্যবস্থার হুমকি।” এ মসজিদে নামায পড়তে আসা ইয়াসির আব্দুর রহমান বলেন, ব্লুমিংটন মেট্রো এলাকার শিশু-কিশোররাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই মসজিদে আসে, আরবি শিখতে আসে। বোমা হামলার ঘটনার পর বাবা-মায়েরা আর তাদের পাঠাতে সাহস করবেন না।
২০১১ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগে ভবনটি ছিল নর্থগেট এলিমেন্টারি স্কুল ও কনকর্ডিয়া হাই স্কুলের। এখনো মসজিদের পাশের একটি কক্ষ ‘ম্যারানাথা কম্যুনিটি চার্চ’ হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় খ্রিস্টানরা। মসজিদে বোমা হামলার পর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জুইশ কম্যুনিটি রিলেশন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্টিভ হানেগস বলেছে, “মুসলমানরা যেন নিজেদের অসহায় না ভাবেন। আমরাও তাদের পাশে রয়েছি।”