একাধিক কন্যা সন্তানের কারণে নির্যাতনের শিকার ভারতের নারীরা
কন্যা সন্তানের জন্মদানের জন্য দায়ী ‘মা’ এমন বর্বর মানসিকতা গেড়ে বসেছে ভারতীয় সমাজে। গ্রামাঞ্চলে তো বটেই, শহরাঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে এমনটা। কন্যাসন্তানের জন্মের পর মাকেই সহ্য করতে হচ্ছে গঞ্জনা, নির্যাতন।
গত কয়েকদিনের খবরের দিকে চোখ রাখলেই উঠে আসে একাধিক কন্যাসন্তানের জন্ম দেবার জন্য কীভাবে দোষী করা হচ্ছে মায়েদের। উঠতে বসতে নানা ধরনের কটূক্তি ও গঞ্জনা শুনতে হয় তাদেরই। কখনও কখনও তা মাত্রাও ছাড়িয়ে যায়। দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন ভোগ করতে হয় সংসারের এবং পরিবারের নিকটজনদের হাতে।
ভারতের জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড বু্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি বাচ্চা যৌন নিগ্রহের শিকার। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো, নাবালিকা বা শিশুর ওপর যৌন হেনস্থার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে পরিবারের মধ্যে, পরিবারেরই কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত সদস্যের হাতে। তাই সে সব ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, হচ্ছে না কোনো ডাইরি অথবা মামলা।
এই তো ক’দিন আগের ঘটনা। হরিয়ানার সিরসা জেলার এক গ্রামে ৪০ বছর বয়সি এক মহিলার তিনটি সন্তানই মেয়ে। চতুর্থবার সন্তানসম্ভাবা হয়েছে সে। চতুর্থ সন্তানও হয়ত মেয়েই হবে এই ক্ষোভে দুঃখে আশংকায় ৫৬ বছর বয়সি শাশুড়ি চার বছরের নাতনির গোপনাঙ্গ গরম খুন্তি দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বাচ্চা মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়৷ মেয়েটির মা পুলিশের কাছে শাশুড়ির বিরুদ্ধে ডাইরি করে। শাশুড়ি নাকি তাঁকে বলেছিল, এবারে ছেলে হলে তবেই রাখবে, না হলে নয়।
দক্ষিণী রাজ্য তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের মেহবুবনগরে এক মহিলা নিঃসন্তান এক ভারতীয় দম্পতিকে তাঁর গর্ভভাড়া দেয়। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মহিলার গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, অনাগত সন্তান হবে মেয়ে। তখন সেই দম্পতি চুপচাপ সরে পড়ে। এখন নবজাত কন্যাসন্তানকে দেখভাল করতে হচ্ছে সারোগেট মাকেই। পুলিশ অবশ্য গর্ভ ভাড়া নেওয়া দম্পতিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।