চীনে ভূমিধসে নিহত পাঁচ, নিখোঁজ ১২০ জন

চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ভূমিধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২০ জন নিখোঁজ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এদের সবারই মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে ভূমিধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর কাদা-পাথরের স্তূপ থেকে মাত্র তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি, আল জাজিরা ও রয়টার্স।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে তিব্বতের কাছাকাছি সিচুয়ানের পার্বত্য গ্রাম শিনমোতে ভূমিধস শুরু হয়। এতে মাটির নিচে প্রায় ৪৬টি বাড়িঘর চাপা পড়ে বলে জানিয়েছে মাওশিয়ান কাউন্টির স্থানীয় সরকার। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এখান থেকে এক দম্পতি ও এক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ওয়াং ইয়ংবো সিসিটিভিকে জানিয়েছেন, ধসে পড়া মাটি ও পাথরে একটি নদীর দুই কিলোমিটারের মতো অংশ বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন পর্বত থেকে কমপক্ষে ১০ লাখ ঘনমিটার কাদা ও মাটি নেমে এসেছে।
নিখোঁজ লোকজনের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের উদ্ধার করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে পুলিশসহ ৫০০ উদ্ধারকারী নিয়োজিত রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে শিনমো পর্যটনের জন্য খুবই জনপ্রিয়। মাটির নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো পর্যটক রয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর মাত্র তিনজন উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
চীনের পিপলস ডেইলিতে প্রকাশিত ছবিতে কয়েকটি বুলডোজার দিয়ে মাটি ও বড় বড় বোল্ডার সরানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর কয়েক দিন আগেই এ বিষয়ে সতর্কতা বার্তা দিয়েছিল। তবে এ সতর্কতা বার্তায় সিচুয়ান অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা, তা জানা যায়নি।
চীনের পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় ভূমিধস নৈমিত্তিক বিপদ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারি বৃষ্টিপাতের সময় এর ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি দেশটির হুবেই প্রদেশে অন্য এক ভূমিধসের ঘটনায় একটি পর্বতের পাদদেশের এক হোটেল ভবন তিন হাজার ঘনমিটার মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ায় সেখানে ১২ জন নিহত হয়েছিল। সিচুয়ানের এ অঞ্চলটিকে ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত