ব্রিটেনে বিতর্ক: একই বৃত্তে আইএস, ইহুদিবাদ ও হিটলার
নিউজনাইন২৪, ডেস্ক: ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী বর্বরতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইহুদিবাদের সঙ্গে নাৎসিবাদ ও হিটলারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক জোরদার হয়ে উঠেছে। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টোন সম্প্রতি ইহুদিবাদকে নাৎসিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ শুরু করেছে ইহুদিবাদী গোষ্ঠী ও তাদের নিয়ন্ত্রিত মহলগুলো।
লিভিংস্টোনের ওই মন্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর ব্রিটেনের লেবার পার্টিতে তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। লন্ডনের সাবেক মেয়র ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন যে, সাবেক নাৎসি নেতা হিটলার ছিলেন ইহুদিবাদের সমর্থক। তিনি বলেন, হিটলার ১৯৩২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন যেসব নীতির কথা প্রচার করে তাতে ইহুদিদেরকে কথিত ইসরাইলে পৌঁছে দেয়ার নীতির কথাও ছিল। ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালানোর আগ পর্যন্ত হিটলার ইহুদিবাদের সমর্থক ছিলেন বলে লিভিংস্টোন স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি তার এই মন্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আমি নিজেকে সত্য অস্বীকারের মধ্যে টেনে নিতে পারব না।
এলবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইহুদিবাদ ও নাৎসিবাদের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কিত নিজের মন্তব্যগুলোকে ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলে যুক্তি দেখিয়েছেন লন্ডনের সাবেক মেয়র। যারা তার ওইসব মন্তব্যকে সেমিটিক বা ইহুদি-বিদ্বেষী বলে উল্লেখ তিনি তাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইহুদিদের সম্পর্কে আমি যা বলেছি একই কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীও।
এদিকে ব্রিটেনের লেবার পার্টির সাবেক এমপি এবং বর্তমান রেসপেক্ট পার্টির নেতা ও এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে লন্ডনের সাবেক মেয়র লিভিংস্টোনের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘সাবেক মেয়র মোটেও অসত্য কিছু বলেননি। বরং তিনি যা বলেছেন তার সবই সত্য ও প্রমাণিত ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এ সংক্রান্ত বই-পুস্তক আমার কাছে রয়েছে এবং আপনাদের উচিত সেসব সংগ্রহ করা।’
লন্ডনের মেয়র পদপ্রার্থী গ্যালোওয়ে বলেছেন, ‘জার্মান ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে পাঠানোর ব্যাপারে নাৎসি প্রধান হিটলার ও ইহুদিবাদী নেতাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। কারণ, এ উভয় পক্ষই বিশ্বাস করত যে জার্মান ইহুদিরা জার্মান নাগরিক নয়। আর এরই আলোকে নাৎসিবাদ ও ইহুদিবাদ একই মুদ্রার দুই পিঠ মাত্র। জার্মান ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে পাঠানো সংক্রান্ত ওই চুক্তি তথা হাভারা চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে উৎসবের নিদর্শন হিসেবে একটি মুদ্রাও প্রকাশ করা হয়েছিল।’ উল্লেখ্য ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় হাভারা চুক্তি।
২০১৪ সালে লেবার দলীয় নারী এমপি নাজশাহ ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, ইসরাইলি ইহুদিদেরকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা উচিত। তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে পরিবহন-ব্যয় হবে ইসরাইলের প্রতি তিন বছরের মার্কিন সামরিক সহায়তার চেয়ে অনেক কম। মার্কিন সরকার প্রতি বছর ইসরাইলকে সামরিক খাতে ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে। তিনি ইহুদিবাদের সঙ্গে আলকায়দার সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরের সাবেক মেয়র ও লেবার পার্টির কাউন্সিলর খাদিম হুসাইনও ইহুদিবাদ-বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। ফলে তার সদস্যপদও স্থগিত করেছে ইহুদিবাদের ব্যাপারে আপোসকামী এই দল।
খাদিম হুসাইন ফেসবুকে লেখা এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘(পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের কারণে) মিলিয়ন মিলিয়ন আফ্রিকান নাগরিকের মৃত্যুর কথা স্কুলে পড়ানো হয় না, অথচ স্কুলের পাঠ্য-ব্যবস্থায় অ্যানি ফ্রাংকের কথা ও হিটলারের মাধ্যমে কথিত ৬০ লাখ ইহুদি হত্যার কথা বলা হয়।’