বোরকা নিষিদ্ধ করলো ইউরোপের আরেকটি দেশ

নিউজ নাইন২৪ডটকম, ডেস্ক: শরীয়া আইন মোতাবেক মহিলারা তাদের সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য দুষ্ট পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি থেকে নিজেদের আবৃত করে রাখতে হয়। প্রত্যেক ইসলামী রাষ্ট্রেই নারীরা স্বাধীনভাবে বোরকা বা হিজাব পড়তে পারেন এমনকি অনেক অমুসলিম রাষ্ট্রেও। তবে এই শালীন পোশাককে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে ব্যাখ্যা করে নিষিদ্ধ করেছে অনেক অমুসলিম রাষ্ট্র।

ইউরোপের দেশ লাটভিয়াতেও নতুন করে নিষিদ্ধ করলো নারীদের বোরকা। ঘরের বাইরে প্রকাশ্য স্থানে মুসলিম নারীদের এই পোশাকটি পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে করা নতুন একটি আইন করে তা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।

লাটভিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং কথিত সন্ত্রাস ঠেকাতেই নতুন এ আইনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১১ সালে প্রকাশ্য স্থানে বোরকা-হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্স। চলতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভলস।

লাটভিয়ার ইসলামবিদ্বেষী আইনমন্ত্রী জিনটার রাসনাকস দাবি করেছে, মুসলিম নারীদের এই ঐতিহ্যগত পোশাকটি পরা ঠেকাতে নয়; বরং লাটভিয়ায় বিদেশিদের কাছে দেশের মূল্যবোধ তুলে ধরতেই আইনটি করা হয়েছে। সে বলেছে, ‘একজন আইনপ্রণেতার কাজ এসব বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া। আমরা শুধু লাটভিয়ার সংস্কৃতিই সংরক্ষণ করছি না, পুরো ইউরোপের সংস্কৃতিই সংরক্ষণ করছি।’

বোরকা-হিজাব নিষিদ্ধের বিষয়ে লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে ফ্রেবারগা বলেছে, এই সময়ে বোরকা পরা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। বোরকায় লুকিয়ে যে কেউ একটা রকেট লাঞ্চার পর্যন্ত বহন করতে পারে।

উল্লেখ্য, লাটভিয়া ইউরোপের ছোট একটি দেশ। এর জনসংখ্যা মাত্র ২০ লাখ, যার মধ্যে মুসলিম রয়েছে কয়েক হাজারের মতো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শরণার্থী পুনর্বাসন পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই বছরে ৭৭৬ জন শরণার্থী নেয়ার কথা রয়েছে দেশটির।

আপনার মতামত