সু চি’র ধোঁকাপূর্ণ ভাষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক: দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইনের (আরাকান) রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নীরবতা ভাঙে রক্তপিপাসু অং সান সু চি। প্রচারিত জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য দিয়েছে সে। যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথাও বলেছে সে।
সংবাদ মাধ্যম এএফপি বলছে, সু চি’র কথায় আশ্বস্ত হতে পারছে না আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছে, সু চি তার ভাষণে সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিষয়ে কিছু বলেনি। সে তার বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আক্রান্ত নিরীহ মজলুম লোকজনকে দোষারোপ করেছে।
মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান বলেছে, রাখাইনে (আরাকানে) যেসব সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে, তা খতিয়ে দেখতে হলে ঘটনাস্থলে যেতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন দেশটিতে পূর্ণভাবে অবাধে প্রবেশের নিশ্চয়তা। এই সঙ্কটের বিষয়ে দ্রুতই দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
মিয়ানমারের রাখাইনে (আরাকান) মগ দস্যু সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উঠা সহিংসতার অভিযোগের বিষয়ে কিছু না বলায় অং সান সু চি ও তার সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, আজকের ভাষণে সু চি স্পষ্ট করেছে যে সে ও তার সরকার রাখাইনের সহিংসতা বিষয়ে বালুতে মাথা গুঁজে রেখেছে। সে বরং তার বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদেরই দোষারোপ করেছে। সু চি পরিস্থিতি দেখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যে আহ্বান জানিয়েছে, সে ব্যাপারে সংস্থাটি বলছে, মিয়ানমারের যদি কিছু লুকানোর না থাকে, তাহলে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান কমিটিকে তদন্তের জন্য দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হোক।
রাখাইনে (আরাকান) চলমান দমন-পীড়নের মুখে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এ বিষয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সু চি’র ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ফিল রবার্টসন বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছে সু চি। তবে সে এত কিছু বলছে না, যা তাকে সেনাবাহিনী ও মিয়ানমারের জনগণের সঙ্গে ঝামেলায় ফেলতে পারে। কারণ এ দুটি পক্ষই রোহিঙ্গাদের অপছন্দ করে।’

আপনার মতামত