রোহিঙ্গা মুসলিমদের বের করে দিয়ে চাকমা বৌদ্ধদের নাগরিকত্ব দিবে ভারত
ডেস্ক: নাগরিকত্ব তো দূরে থাক, শরণার্থী হিসেবেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের রাখতে চায় না ভারত। কিন্তু উপজাতি চাকমা বৌদ্ধদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেয় প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। সম্প্রতি আবারো যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ‘নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ভারত সরকার।
রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা নিধনের এই সংকটকালীন সময়ে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গতকাল বুধবার উপজাতি চাকমা বৌদ্ধদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে বৈঠক করেছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পাওয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চাকমারা বৌদ্ধ। ধর্মীয় কারণে ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তান চাকমা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করলে হাজারে হাজার চাকমা ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো দিয়ে প্রবেশ করে। নির্যাতনের মুখে চাকমারা ছড়িয়ে পড়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, মিজোরাম, আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে।
খবরে আরো বলা হয়েছে, চাকমারা বৌদ্ধ, হাজংরা হিন্দু। এই উভয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তৎকালীন আসামের লুসাই পাহাড় জেলা (বর্তমানে মিজোরাম রাজ্য) দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তারপর তারা অরুণাচল প্রদেশে আসে। ভারতের কর্মকর্তারা বলছে, এদের সংখ্যাটা এখন এক লাখের কাছাকাছি।
২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট চাকমাদের নাগরিকত্ব দিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং মূলত সেই নির্দেশের আলোকে ব্যবস্থা নিতে চাইছে।