রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি’র ভাষণ মিথ্যাচারে ভরা : রোহিঙ্গা নেতা

ডেস্ক: রাখাইন সঙ্কট নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি প্রকৃত সত্য লুকিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের এক নেতা। ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের (ইআরসি) প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ বলেছেন, রাখাইনে (আরাকান) সেনাবাহিনী যে ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে, তা আড়াল করার প্রয়াস চালিয়েছে সু চি, দিয়েছে নানা ‘মিথ্যা তথ্য’। সু চি’র ভাষণের পর নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে ইউরোপে জনমত গঠনে সক্রিয় ইআরসি’র নেতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, “আমরা যা ধারণা করেছিলাম, তাই ঘটেছে। অং সান সু চি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। “প্রথমেই সে ছায়া দিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে, যারা গণহত্যা ঘটাচ্ছে। সে যালিম বর্মী বাহিনীর ভূমিকার কোনো নিন্দা জানায়নি; উপরন্তু দায়ী করেছে রোহিঙ্গাদের।”
সেনা অভিযান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়েছে বলে সু চি’র কথাও ঠিক নয় দাবি করে ইব্রাহিম বলেন, “এই সপ্তাহেও সেনাসদস্যরা রোহিঙ্গাদের ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। সে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী দলকে ভিসা দেয়া হচ্ছে না।”
রাখাইনে (আরাকান) মুসলিমদের মতো অন্য সম্প্রদায়ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সু চি যে কথা বলেছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে রোহিঙ্গা নেতা বলেন, “এটা মোটেই সত্য নয়। অন্য জনগোষ্ঠীগুলোকে সরকারি উদ্যোগে সরিয়ে নেয়া হয়।” রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়ার যে কথা সু চি বলেছে, তাও ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, “সু চি তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ বিসর্জন দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান আসলে করবে না।”
কেন অবস্থান বদলাবে না সু চি?
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো চাপ দিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এই জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত এই নেতা। দশকের পর দশক সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমার কথিত গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে মোটে এক বছর আগে; এই পথে হাঁটতে গিয়ে কথিত নোবেলজয়ী সু চি যালিম হানাদার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আপস করে চলছে বলে তার আন্তর্জাতিক মিত্ররাও মনে করছে। দশকের পর দশক ধরে কয়েক লাখ শরণার্থীর ভার বহন করে আসা বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির পর মিয়ানমার সোয়া দুই লাখের মতো রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়েছিল। তখন তাদের বলা হয়েছিল, ‘মিয়ানমার সমাজের সদস্য’। এরপর আর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগোয়নি। ভাষণে সু চি শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি কেন তারা রাখাইন ছাড়ছে, তা খুঁজে বের করার কথা বলে। ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছে, “সু চি’র উচিত হবে বাংলাদেশে এসে শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখা; তাহলে সে বুঝবে, কেন তার দেশের এত নাগরিক পালিয়ে আসছে।” তবে এক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেছে, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিছু দিন আগে সফরে এসেছিলো। আমরা তাকে শরণার্থী শিবিরে যেতে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি।”
চলমান সঙ্কট নিয়ে সু চি’র ভাষণের কোনো প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আসেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছে, শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে যৌথভাবে কাজ চালাতে মিয়ানমারকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে।

আপনার মতামত