আত্মিক এবং শারীরিক উভয় ক্ষেত্রেই রোযা অমূল্য নিয়ামত
মুহম্মদ ইবনে ইসহাক: আরবী ভাষায় পবিত্র রমযান উনাকে ‘রমাদ্বান’ বলা হয়। যার অর্থ হলো দগ্ধিকরণ, দহন বা জ্বালিয়ে দেয়া। অর্থাৎ সমস্ত পাপ কাজ ত্যাগ করে পরিপূর্ণরূপে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করার মাসই হলো রমাদ্বান শরীফ।
আর বছরের মধ্যে একাধারে এক মাস রোযা শুধুমাত্র মানুষের আত্মার উৎকর্ষ সাধন করে না, মানুষের শরীরের উপরেও প্রচুর প্রভাব ফেলে থাকে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে মুখের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে বলে মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ৩০ দিন রোযা রাখার ফলে রোযাদারের পরিপাক যন্ত্রগুলো বিশ্রাম লাভ করে এবং পতিত জমির ন্যায় শক্তি লাভ করে। সারা বছর শরীরে যে বিষ জমা হয়, পবিত্র রমাদ্বান শরীফে রোযা রাখার ফলে তা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। সুবহানাল্লাহ!
আরো বলা হয়, এক মাস পবিত্র রোযা প্রতিপালনের ফলে দেহের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের ক্ষমতা ফিরে আসে। তাতে লিভার শক্তিশালী হয়ে উঠে। পাকস্থলী অধিক তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ায় পেটের পীড়ার উপশম হয়। গ্যাস্টিক, আলসারের ক্ষত শুকিয়ে যায় এবং নতুন ক্ষমতা ফিরে আসে। বহুমূত্র, বাত, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত রোগ ইত্যাদি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা পালনের মাধ্যমে উপশম হতে বাধ্য হয় এবং বিশেষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। সুবহানাল্লাহ!
দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখার ফলে অনেক ধূমপায়ীর ধূমপান হ্রাস পায়, অনেকের অভ্যাস পাল্টে যায়। ফলে ধূমপানজনিত রোগের প্রসার কমে। অতএব, প্রতিবছর রোযা পালনের মাধ্যমে দেহের যথেষ্ট উপকার সাধিত হয়; যা মানুষের রোগমুক্ত দীর্ঘ জীবন লাভে সাহায্য করে। তাই আমাদের উচিত পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এ যথাযথভাবে রোযা রাখা।