বন্যায় কুড়িগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা তছনছ
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা কুড়িগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছে। পানির তোড়ে বিভিন্নস্থানে সড়ক ভেসে গেছে। এতে তিন উপজেলার সাথে জেলা সদরসহ দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্ধ হয়ে আছে সোনাহাট স্থল বন্দরের কার্যক্রম। সেইসঙ্গে রেলপথের ব্রীজের পিলার দেবে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে দেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এবারের বন্যায় কুড়িগ্রাম-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক এবং কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কসহ জেলা সড়কগুলোর ওপর দিয়ে পানির স্রোত বয়ে গেছে। এতে সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দকের। খাল দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। নৌকা বা ভেলা ছাড়া খালগুলো পারাপার সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার সাথে জেলা সদরসহ সারাদেশের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পাশাপাশি বন্যার পানির তোড়ে সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় দু’টি পিলার ভেঙে সেতু দেবে যাওয়ায় জেলার সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সোনাহাট স্থল বন্দরের আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থল বন্দরের আমদানিকারক শাহীন শেখ রঞ্জু বলেন, আমরা নিজেরা আমদানি করতে পারছি না। শ্রমিকরা বসে আছে। সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা দু’সদস্যের দল ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দিলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানালেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বরকত খুরশীদ আলম।
তিনি বলেন, চারটি সড়কের যে ১৩শ ৫১ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেসে গেছে সেটির পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ঈদের আগে সড়ক যোগাযোগ যাতে স্থাপন করা যায়। জেলায় এবারের বন্যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৭টি পাকা সড়কের ২৬ কিলোমিটার এবং এলজিইডি’র ৭৭টি পাকা সড়কের ৬২ কিলোমিটার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে ৩৭টি ব্রিজ ও কালভার্ট।