রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা বাজেটে অস্বচ্ছতা বাড়ছে : সেমিনারে বক্তারা
রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে দেশের রাজস্বনীতি ও বাজেটে অস্বচ্ছতা বাড়ছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাজেট যেমন স্বচ্ছ নয়, তেমনি তা পর্যাপ্তও নয়। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপে থাকে বাংলাদেশে পরিসংখ্যা ব্যুরোও (বিবিএস)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ইম্প্রুভিং ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তারের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। প্রবন্ধে তিনি রাজস্ব বাজেট ও সরকারের নীতির ক্ষেত্রে কী ধরনের অস্বচ্ছতা ও দুর্বলতা রয়েছে, তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মোট জাতীয় আয়ে সামরিক খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা এখন ভারতের চেয়ে এগিয়ে। অর্থাৎ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ সামরিক খাতে বেশি ব্যয় করছে। তথ্য ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে সরকার বাজেট ও রাজস্বনীতির অনেক তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।
বৈশ্বিক একটি সূচকের সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য প্রকাশের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দেশ যত বেশি অনুন্নত, সে দেশে তত কম তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশেও সেটি হচ্ছে। স্থানীয় সরকারের বাজেট যেমন স্বচ্ছ নয়, তেমনি তা পর্যাপ্তও নয়। ফলে এ খাতে ব্যয়কৃত অর্থের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার এমন কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে, যার পরিচালনার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফলে সার্বিকভাবে স্বচ্ছতা ও সুশাসন আনা যাচ্ছে না।
স্বাগত বক্তব্যে পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ বলেন, রাজস্ব আহরণ অপরিকল্পিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় আয়ের প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ ঋণখেলাপি হয়ে গেছে। ট্রেজারি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালন বিষয়ে যথাযথভাবে বাজেটে থাকে না। এছাড়া সামরিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আর্থিক খাতের সংস্কার নির্বাচনের আগে করা কিছুটা কঠিন হবে। তবে ২০২০ সালে এটি করা সম্ভব হবে। স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠন করা চ্যালেঞ্জিং। তবে তাদের প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে তাদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স পরিবর্তন জরুরি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান ও ড. মুহম্মদ তারেক এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ।