আগামী বাজেটের আকার হবে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজেটের আকার চার লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। আমরা আশা করছি আগামী বছর অন্তত পক্ষে তা সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি হবে। পরের বছর আরো বাড়বে। এভাবে বাজেটকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এজন্য করদাতাদের এগিয়ে আসতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-৩ আয়োজিত ‘আয়কর ক্যাম্প ও করদাতা উদ্ধুদ্ধকরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৪০ বছর বয়সী করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া অত্যন্ত ভাল লক্ষণ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৪০ বছর বয়সের বেশিরভাগ মানুষ এখন কর দেন। গত ৮-৯ বছর ধরে এ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এটা অত্যন্ত আশা ও গর্বের কথা। তবে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে কর কর্মকর্তাদের আরো বেশি করদাতাবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন,গত ৪০ বছর ধরে আমি করের সাথে সম্পৃক্ত। তখন কর যারা আদায় করতো মানুষ তাদের ভয় করতো। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আগে নিবন্ধিত করদাতা ৭ লাখ থাকলেও কর দিত অনেক কম। এখন নিবন্ধিত করদাতা ৩০ লাখ। এরমধ্যে কর দেয় প্রায় ২৪ লাখ।
মুহিত বলেন, বাজেটের আকার বাড়ানোর উদ্দেশ্য হলো-যাতে আমরা মানুষকে নানা ধরনের সেবা দিতে পারি। আমরা সমাজ সেবামূলক কাজে জাতীয় আয়ের ২ শতাংশ ব্যয় করি। সেটা অনবরত বাড়িয়ে যাচ্ছি। করদাতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সবাই সহায়তা না করলে রাষ্ট্র সামনের দিকে এগুতে পারবে না। আপনারা যদি রাষ্ট্রের জন্য রসদ সরবরাহ না করেন, কর না দেন, শুল্ক না দেন তাহলে রাষ্ট্র কি করে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করবে।
সরকারের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে-দেশকে দারিদ্রমুক্ত করা। যাতে দেশে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ না থাকে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা থাকবে ৭ শতাংশের মতো। এর মধ্যে থাকবে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও নারী। এই ৭ শতাংশ রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করবে। এটা হলো আমাদের ভিশন। জাতিসংঘের হিসেবে এ ভিশন ২০৩০ সালে বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু আমার হিসেবে ২০২৪ সালে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত