রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে চীন যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ১৯ নেতা

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিতে যখন চীনের শরণ নেওয়ার পরামর্শ আসছে, সেই সময় এশিয়ার প্রভাবশালী এই দেশটি সফরে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একদল নেতা।

নয় দিনের সফরে আগামী মঙ্গলবার তারা বেইজিংয়ে উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন বলে শনিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

দুপুরে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আমাদের দলের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল যাবে। সেখানে পার্টি টু পার্টি এবং দুই দেশের সব বিষয় নিয়েই কথা হবে।

“যেহেতু রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে এসেছে, এ বিষয়টির সুরাহায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও আমদের নেতারা জানাবেন।”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত তিন সপ্তাহে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলছেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।

বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সহিংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানও জানিয়ে আসছে। এরপরেও রাখাইন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে।

সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা আটকানোর পাশাপাশি এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে সংকটের অবসানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে চীনকে রাজি করানোর পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট তাকেদা আলেমু।

কয়েক দশক ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে নতুন এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের সামলানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণে চীনের সহায়তা চাওয়া হবে জানিয়ে বেইজিং সফরের প্রতিনিধি দলে থাকা দলটির এক নেতা বলেন, “চীন সফরে আমাদের আলোচনায় সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি থাকবে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা চীনকে তাদের অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাব।”

আপনার মতামত