বিশ্বের মোট সম্পদের অর্ধেক ৮, বাকি অর্ধেক ৬২ জনের
ডেস্ক: পশ্চিমাবিশ্বের পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার ফলস্বরূপ বিশ্বের অতি সম্পদশালী আর দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসাম্য বেড়েই চলেছে। একটি বিশ্লেষণে এমন তথ্য প্রকাশ হয়েছে যে, বিশ্বের শীর্ষ ৮ ধনীর সম্পদের পরিমাণ দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মোট সম্পদের সমান। অর্থাৎ এই ৮ জনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের ৩৬০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের সমান। অতি ধনীর সঙ্গে পৃথিবীর অর্ধেক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য এখন পূর্ব ধারণার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ব্রিটিশ দাতা সংস্থা অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সব মানুষের সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ ৭০ জন মানুষের কাছে আছে। এদের মাত্র ৮ শীর্ষ ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছে আছে অর্ধেক অর্থাৎ ৩৬০ কোটি গরিব মানুষের সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ। এই ৮ ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৪২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বাকি অর্ধেক দরিদ্র মানুষের সম্পদ রয়েছে ৬২ জন ধনকুবেরের হাতে।
আশঙ্কা যা করা হয়েছিল তারচেয়ে বেশি বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্সফাম কিছুদিন আগে জানিয়েছিল মাত্র ১ শতাংশের হাতে বিশ্বের সব মানুষের সমান সম্পদ।
শীর্ষ ধনাঢ্য আটজনের ছয়জনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এরা হলো-
১. বিল গেটস (যুক্তরাষ্ট্র): মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা (সম্পদ ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার),
২. আমানসিও ওর্তেগা (স্পেন), জারা ওনার ইন্ডিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা (সম্পদ ৬৭ বিলিয়ন ডলার),
৩. ওয়ারেন বাফেট (যুক্তরাষ্ট্র): শেয়ার মার্কেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে (সম্পদ ৬০.৮ বিলিয়ন ডলার),
৪. কার্লোস সিলিম হেলু(মেক্সিকো): গুরুপো কারসোর মালিক (সম্পদ ৫০ বিলিয়ন ডলার),
৫. জেফ বিজোস (যুক্তরাষ্ট্র): প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমাজন (সম্পদ ৪৫.২ বিলিয়ন ডলার),
৬. মার্ক জাকারবার্গ(যুক্তরাষ্ট্র): সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেসবুক (সম্পদ ৪৪.৬ বিলিয়ন ডলার),
৭. ল্যারি এলিসন(যুক্তরাষ্ট্র): সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ওরাকল (সম্পদ ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার) ও
৮. মাইকেল ব্লুমবার্গ(যুক্তরাষ্ট্র): ব্লুমবার্গ এলপির মালিক (সম্পদ ৪০ বিলিয়ন ডলার
অক্সফামের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ডরিং এধরনের সম্পদের হিস্যার সমালোচনা করে বলেছেন, পরিস্থিতি এমন এক নাজুক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে যা ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
প্রতিবেদনটি ডাভোসে আগামী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও উপস্থাপন করা হবে। ফোর্বস এবং বার্ষিক ক্রেডিট স্যুইস গ্লোবাল ওয়েলথের ডাটাবুকের তথ্যের উপর ভিত্তি করে অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। ব্যক্তির সম্পদ, প্রধানত সম্পত্তি এবং জমি ও ঋণের মান সম্পদের সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৮৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দরিদ্র মানুষের আয় ১০ শতাংশ বেড়েছে যা মাথাপিছু ৬৫ মার্কিন ডলার। একই সময়ে বার্কি ১ ভাগ ধনী যারা বিশ্বের সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছেন তাদের আয় বেড়েছে দরিদ্র মানুষের চাইতে ১৮২ গুণ বেশি এবং এর পরিমাণ মাথা পিছু ১১ হাজার ৮০০ ডলার।
মার্ক গোল্ডরিং আরো বলেন, যখন বিশ্বে প্রতি ৯ জন মানুষের ১ জন অনাহারে রাতে ঘুমাতে যায় তখন একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির হাতে এত সম্পদ রয়েছে যে তা খরচ করতে তার আরো কয়েকটি আয়ুষ্কাল প্রয়োজন হবে। বৈষম্য শুধু লাখ লাখ মানুষকে দরিদ্র করেই রাখেনি তা আমাদের রাজনীতি ও সমাজকে ভঙ্গুর ও বিষাক্ত করে তুলছে।
আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈষম্য সম্পর্কে বিশ্বকে হুঁশিয়ার করেছেন। এই বৈষম্যই দেশে দেশে সন্ত্রাস, মানসিক ব্যধি, অবিশ্বাস, অসুস্থতা সৃষ্টি করছে।
ব্রিটেনে আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০০৮ সালে মন্দার পর থেকে দেশটির ১’শ ধনাঢ্য পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রতিসপ্তাহে বৃদ্ধি হয়ে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫২ পাউন্ড যেখানে মধ্যবিত্ত পরিবারের একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ১০ পাউন্ড। ধনী ও গরিবের আয়ের এই বিশাল পার্থক্য সমাজকে বিধ্বস্ত করছে। মিরর