রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে জার্মানিতে এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা বলছেন, ডেভিড এস নামের ওই ব্যক্তি বার্লিনে ব্রিটিশ দূতাবাসে কাজ করতেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, অজ্ঞাত অর্থের বিনিময়ে তিনি অন্তত একবার রুশ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নথি পাচার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বার্লিনের বাইরে পোটসড্যামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি ও কর্মস্থলেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জার্মানি। আমাদের মাটিতে এক ঘনিষ্ঠমিত্র দেশের গুপ্তচরবৃত্তি অগ্রহণযোগ্য। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিটিশ ও জার্মানির যৌথ তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। যাতে তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেওয়া লেগেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির তৎপরতা সম্পর্কে জানতে জার্মানদের সঙ্গে এমআই৫, ব্রিটিশ পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করেছে। জার্মানিতে ৫৭ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে লন্ডন মহানগর পুলিশ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জার্মান কর্তৃপক্ষকে।
বুধবার (১১ আগস্ট) তাকে একজন তদন্ত বিচারকের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে। কৌঁসুলিরা বলছেন, দূতাবাসে স্থানীয় কর্মী হিসেবে তাকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
ঠান্ডাযুদ্ধ চলার সময়ে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্রভূমি ছিল বার্লিন। গোপনীয় তথ্য-উপাত্তের খোঁজে সড়ক ও গলিতে গোয়েন্দাদের সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। এরপর ঠান্ডাযুদ্ধের অবসান হলে গোয়েন্দা তথ্য আহরণের কৌশল বদলে গেছে। এখন প্রায়ই সাইবার-গোয়েন্দাবৃত্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কিন্তু গুপ্তচরবৃত্তির পুরনো কৌশল এখনো রয়ে গেছে। গোয়েন্দারা এখনো সেই সব লোককে খুঁজে বেড়ান, যাদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যাবে। এছাড়া বার্লিনে দূতাবাসগুলো গুপ্তচরবৃত্তির মূল নিশানা হয়ে আসছে।
কেবল গোপন নথিতে প্রবেশাধিকার থাকা কূটনীতিকদেরই না, গাড়ি চালক থেকে শুরু করে নিরাপত্তাপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নকর্মীদেরও তথ্য পাচারের বিনিময়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তারা গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোতে ঢুকে রেকর্ডিং যন্ত্র পেতে রাখতে পারেন কিংবা নিজেরাই তথ্য সংগ্রহ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি বড় ধরনের ঘটনার পর জার্মান ও ব্রিটেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ২০১৮ সালে সলিসবুরিতে সের্গেই স্ক্রিপল ও তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে তারা।
বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট থেকে তারা বেঁচে গেলেও পরিত্যক্ত পারফিউমের বোতল মনে করে সেটির সংস্পর্শে এসে স্থানীয় এক নারী নিহত হন। এছাড়া নার্ভ এজেন্ট হামলার শিকার রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী অ্যালেক্সেই নাভালনিকে চিকিৎসা দিয়েছে জার্মানি।