১৯৮৩ থেকে চলছে তিস্তার পানি নিয়ে দরকষাকষি

১৯৮৩ থেকে চলছে তিস্তার পানি নিয়ে দরকষাকষি

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির কথা বলা হচ্ছে গত কয়েক দশক ধরে। কিন্তু আশ্বাসেই থেমে আছে তা। প্রতিনিয়ত আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে তিস্তা ইস্যু। এবারো ভারত বলেছে, আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধানে তারা আশাবাদী।

একনজরে তিস্তা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা ও আশ্বাসের খতিয়ানের অংশ:

তিস্তা, যার পানি নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দরকষাকষি চলছে সেই ১৯৮৩ সাল থেকে।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বহুল আলোচিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের কথা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সেই চুক্তি সময়কাল ধরা হয়েছিলো ১৫ বছর। চুক্তি অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানির ৪২.৫ শতাংশে ভারতের অধিকার ও ৩৭.৫% বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় শেষ হয়ে যায় তিস্তা চুক্তি সাক্ষর।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঘিরে আশা তৈরি হয় তিস্তা চুক্তি সাক্ষরের। সফরে তিনি বৈঠকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে। কিন্তু সেবারও বেঁকে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হয়নি তিস্তা চুক্তি।

এমনকি ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঢাকা সফরে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তার চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিলেও ফল হয়নি। এরমধ্যে কেটে গেছে ছয় বছর।

কিন্তু সুরাহা হয়নি প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তিটি। যদিও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার অনুষ্ঠিত হওয়া ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দেয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
একইসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে তিস্তাসহ বাকি নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়েও আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত