যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য কোথাও আশ্রয় পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা, কেন এমন পরিণতি?
ডেস্ক: শেখ হাসিনার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলি তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ চেয়েছিল এমন প্রতিবেদনের মধ্যে এই উন্নয়নটি আসে। যুক্তরাজ্যও তাকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত নয়। পরিস্থিতি ক্রমাগত বিকশিত হওয়ায় তিনি আপাতত ভারতে থাকতে পারেন।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নিরাপদ ও গোপন অবস্থানে রয়েছেন। প্রায় ৪৮ বছর আগে, তিনি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেছিলেন যা আজও বলবৎ আছে।তখন তিনি ছয় বছর ধরে নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করেছিলেন। শেখ রেহানার জন্য কি ব্যবস্থা আছে পরিস্কার নয় ।
অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করার পর শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার এহেন পতনের কারণ কি নিজেই?
বাংলাদেশের জনগন প্রথম থেকেই কোটা আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে কারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল যৌক্তিক। মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিদেরও ৩০% কোটা পাওয়ার মতো হাস্যকর, অযৌক্তিক জিনিস তুলে দেওয়াই উচিত ছিল। যদিও শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়নি, শুধু সংস্কার চেয়েছিলো।
শেখ হাসিনার প্রথমেই উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নেওয়া, কিন্তু গত সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে হাসিনার মধ্যে এত পরিমাণে অহংকার ও জেদ চলে এসেছিল যে তিনি শিক্ষার্থীদের এই অতি সাধারণ দাবি মেনে নেন নি। তিনি উল্টে তাদেরকে indirectly রাজাকার বলে অভিহিত করেন। এটাই ছিলো তার চরম ভুল, যে ভুলের মাশুল এখন তাকে ও তার দলকে দিতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কোটা সংস্কার করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিরা কোটা পাবেনা তো কি রাজাকারের নাতিরা পাবে? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিরা মেধাবী নয় শুধু রাজাকারের নাতিরা মেধাবী?” তাঁর এই দুই কথা মেলালেই বোঝা যায় যে তিনি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকেই রাজাকার বলেছিলেন।
এই ‘রাজাকার’ মন্তব্যটি শিক্ষার্থীদের বুকের মধ্যে বুলেটের চেয়ে শক্ত আঘাত হানে। ফলে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাজপথে নেমে স্লোগান দেয়া শুরু করে এভাবে-
তুমি কে আমি কে?
রাজাকার রাজাকার।
কে বলেছে কে বলেছে?
স্বৈরাচার স্বৈরাচার।

এই স্লোগানটি যে কামানের গোলার চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং তা একসময় গণভবন ও সংসদ গুড়িয়ে দিতে পারে তা বোধহয় শেখ হাসিনা ও উপদেষ্টারা বুঝতে পারেনি।
হাসিনা তখনও পারতেন তাদের সাথে আলোচনায় বসে তাদের দাবি মেনে নিতে। কিন্তু তিনি তা করলেন না, বরং সরকার আশ্রিত ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনী নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের উপর লাঠি, রামদা, পিস্তল ইত্যাদি নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালায়। এমনকি তারা শিক্ষার্থীদেরকেও ছাড়েনি। কী ছিল তাদের অপরাধ? ছাত্রলীগের হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুও ঘটে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। এরপরেও হাসিনা তাদের দাবি মানলেন না। শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসতে চাইলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তখনো যৌক্তিক দাবি তুলে জানালো, আমরা আমাদের এতোগুলো ভাইয়ের লাশের উপর দিয়ে কোন আলোচনায় বসবোনা। এখন এক দফা এক দাবি ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের পদত্যাগ চাই’।
‘তোর কোটা তুই নে, আমার ভাইদের ফিরিয়ে দে’ দাবিতে প্লাকার্ড লিখে রাস্তায় নামলেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারের পদত্যাগ দাবি আদায়ে তারা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেন। তার আগে অসহযোগ আন্দলনের ঘোষণা দিলেন। সর্বত্র শুরু হলো অসহযোগ আন্দোলন। এরই মাধ্য পুলিশ ও দলীয় নেতা কর্মীদের যৌথ হামলায় শতাধিক ছাত্র জনতার তাজা প্রাণ ঝড়ে পড়লো।
অসহযোগ আন্দলের দ্বিতীয় দিন (মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির প্রথম দিন) গণভবন অভিমুখে রওনা দেয় দেশের প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র জনতা। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা সেনা বাহিনীর সহায়তায় গোপনে বঙ্গভবনে গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে হেলিকপ্টার যোগে চলে যায় ভারতের আগরতলা বিমান বন্দরে। অতঃপর সেখান থেকে দিল্লি।
পতন ঘটলো ১৬ বছরের স্বৈরাচারিতার। ৬ আগষ্ট বাংলাদেশ আরেকবার স্বাধীন হলো, মুক্ত হলো স্বৈরাচারের শোষন থেকে।