মোকামের তুলনায় ঢাকায় সবজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবার রমজান মাস এলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাজারে শাক সবজির কোনো কমতি নেই। যথেষ্ট সরবরাহ আছে, তারপরও রোজা বলে কথা। দাম তো বাড়তেই হবে। বিশেষ করে ঢাকার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ান। এরা সবচেয়ে বড় যে অজুহাত দেয় সেটি হলো- মোকামে মালের দাম বেশি।
অথচ মোকামে খবর নিয়ে দেখা গেছে, ঢাকার বাজারগুলোতে যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে, তার বেশিরভাগ সবজির দামই মোকামে এর অর্ধেক। তাদের আরেকটি অজুহাত হলো- কাঁচামাল দ্রুত পচনশীল। বিক্রি না হলে পচে যায়, যে কারণে মোকামের দামের সঙ্গে বড় পার্থক্য থাকে। তবে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ আবার কিছু পণ্যের দাম চারগুণও বাড়ে।
শুরু হয়েছে রোজা। পবিত্র রমজান মাসে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সবজি হলো বেগুন। যা দিয়ে তৈরি হয় বেগুনি। প্রয়োজন অন্যান্য তরিতরকারিও। এ কারণে সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
গত কয়েকদিনে ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে- বাজারে তরিতরকারি যে দামে বিক্রি হচ্ছে এর অনেকগুলোর দাম মোকামে অর্ধেক।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কৃষক না বাঁচলে কৃষি বাঁচবে না। কৃষক যাতে পণ্যের ন্যায্য দাম পায়, এটা সংশ্লিষ্ট মহলের দেখা উচিৎ। কৃষক যদি পণ্য উৎপাদন না করে শহরের মানুষেরা বিপদে পড়ে যাবে।
তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে হয়তো গ্রামের কৃষকরা পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। তবে তারা যেন দাম পায়, এটা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। লকডাউনের মধ্যেও বাজার ব্যবস্থাপনা চালু করা প্রয়োজন।
রমজান মাসে বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, রোজার আগে অতি মুনাফালোভী এই সিন্ডিকেটসমূহের কারণে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা উচিৎ। কিন্তু সরকারের বাজার মনিটরিং করার কোনো লোক নেই।
তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত থাকার পরও অসৎ সিন্ডিকেটের হোতারা স্বেচ্ছাচারী পন্থায় প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। সারা দেশে লকডাউন চলছে। কিন্তু কৃষককে বাঁচানোর জন্য সীমিত আকারে হলেও পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। অন্যথায় কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাবে না।