ভারতীয় বীজের কপি চাষ করে বিপাকে কৃষক
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: মিরসরাইয়ে ভারতীয় দেবগিরী ও বঙ্গিম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষ করে বিপাকে পড়েছে এক কৃষক। রোপনের ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন আসার কথা থাকলেও আসেনি ৯০ দিনেও। ফলে প্রায় ৭ হাজার ফুলকপি ও বাঁধাকপি গাছ নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম জোয়ার গ্রামের কৃষক শরিয়ত উল্লাহ।
করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম জোয়ার গ্রামের কৃষক শরিয়ত জানান, তিন মাস আগে করেরহাট বাজারের ‘কাশেম বীজ ভান্ডার’ থেকে প্রায় ৭ হাজার বীজ এনে ২০% জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেন। বীজ বিক্রির সময় মালিক আবুল কাশেম বলেছিলেন এগুলোর ভারতীয় বীজ। আগামী ৬৫ দিনের মধ্যে গাছের ফলন আসবে। তাই দেশীয় বীজ থেকে ভারতীয় বীজের দাম একটু বেশি হবে।
তাড়াতাড়ি ফলন ও লাভের আশায় বেশি দামে কাশেম বীজ ভান্ডার থেকে বীজ ক্রয় করেন শরিয়ত। কিন্তু বীজ রোপনের তিন মাস অর্থ্যাৎ ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও গাছে ফল আসেনি। কবে আসবে তারো কোন নিশ্চয়তা নেই। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী থেকে টাকা ধার নিয়ে তিনি ২০% জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। এখন ধারের টাকা পরিশোধ করতে পাওনাদার তাকে চাপ দিচ্ছে।
কৃষক শরিয়ত প্রতিবেশী অহিদুর নবী শোভন জানান, শরিয়ত উল্ল্যা তাদের জমি বর্গা চাষ করে। প্রায় ৩ মাস আগে টাকা ধার নিয়ে ফুলকপি ও বাঁধা কপি চাষ করেছেন। কিন্তু এখনো ফলন আসেনি। তাই পাওনাদারের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না তিনি।
ক্ষেতে গিয়ে দেখা, হাজার হাজার ফুলকপি ও বাধাকপি গাছ দাঁড়িয়ে আছে। কোন গাছে ফলন আসেনি। কপি ছাড়াও শরিয়ত প্রায় এক একর জমিতে বেগুন, শীম, বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করেছেন।
এ বিষয়ে কাশেম বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী আবুকাশেম জানান, তিনি ফেনী শহরের একটি বীজ ভান্ডার থেকে ভারতীয় দেবগিরী ও বঙ্গিম জাতের ফুলকপি-বাঁধা কপির বীজ কিনে এনে বিক্রি করছেন। প্যাকেটের গায়ে ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন আসার কথা লিখা থাকলেও কেন ফলন আসেনি তিনি তা জানেন না।