বিশ্বে যে ১০টি দেশের সবচেয়ে বেশি উপনিবেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল

আল জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের ১০টি দেশ সবচেয়ে বেশি উপনিবেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

যুক্তরাজ্যের ১৪ অঞ্চল:

যুক্তরাজ্যের বিস্তৃত উপনিবেশিক নেটওয়ার্ক আটলান্টিক, ক্যারিবীয়, প্যাসিফিক ও আর্কটিক অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। বাসযোগ্য অঞ্চলে রয়েছে বারমিউডা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, জিব্রালটার, মন্টসেরাত ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ। এগুলো স্বশাসিত হলেও প্রতিরক্ষা ও বিদেশনীতি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে। sparsely populated অঞ্চলে চলে সামরিক, বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম। সম্প্রতি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মাউরিশিয়াসকে হস্তান্তর করায় ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন। এছাড়া তিনটি ক্রাউন ডিপেন্ডেন্স – জার্সি, গারনসেই, আইল অফ ম্যান – কখনোই উপনিবেশ ছিল না, তবে এগুলোর প্রতিরক্ষা ও বিদেশনীতি যুক্তরাজ্যের দায়িত্বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ অঞ্চল:

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বসবাসযোগ্য অঞ্চল হলো পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, আমেরিকান সামোয়া ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ। পুয়ের্তো রিকো সবচেয়ে জনবহুল ও স্বশাসিত। এছাড়া ৯টি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে না। যেমন বেকার, হাওয়ার্ড, জার্ভিস, জনস্টন এটল, মিডওয়ে এটল, ওয়েক দ্বীপ। মূলত এই দ্বীপগুলোতে সামরিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

ফ্রান্সের ১৩ অঞ্চল:

ফ্রান্সের উপনিবেশিক ছায়া আটলান্টিক, ক্যারিবীয়, ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আমেরিকায়। ফ্রেঞ্চ গায়ানা, গুয়াডেলুপ, মার্টিনিক, মায়োট ও রিউনিয়ন ফ্রান্সের পূর্ণাঙ্গ অংশ। অন্য অঞ্চলগুলো – ফ্রান্স পলিনেশিয়া, নিউ ক্যালেডোনিয়া, সেন্ট পিয়ার ও মিকেলন – স্বায়ত্তশাসিত। ফ্রান্সের দক্ষিণ ও অ্যান্টার্কটিক ভূমি বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত।

অস্ট্রেলিয়ার ৭ অঞ্চল:

বাসযোগ্য অঞ্চলগুলো নরফক দ্বীপ, ক্রিসমাস দ্বীপ ও কোকোস দ্বীপপুঞ্জ। বাকি অঞ্চলগুলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং সামুদ্রিক সীমারক্ষা কাজে ব্যবহৃত।

নেদারল্যান্ডসরে ৬ অঞ্চল:

ক্যারিবীয় অঞ্চলে তিনটি ‘কনস্টিটুয়েন্ট’ দেশ – আরুবা, কুরাসাও, সেন্ট মার্টিন। বাকি তিনটি অঞ্চল বোনায়রে, সিন্ট ইউস্টাতিয়াস, সাবা সরাসরি হেগ থেকে শাসিত।নরওয়ে ৫ অঞ্চল:আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে স্যাভালবার্ডে আন্তর্জাতিক বসতি অনুমোদিত। অন্যান্য অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলগুলো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সামরিক গবেষণায় ব্যবহৃত।

নিউজিল্যান্ডের ৪ অঞ্চল:

কুক দ্বীপ ও নিউয়ে স্বশাসিত; টোকেলাউ অ-স্বায়ত্তশাসিত; রস ডিপেন্ডেন্সে অ্যান্টার্কটিক দাবি।

ডেনমার্কের ২ অঞ্চল:

গ্রিনল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ। গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের কেনার প্রস্তাব বিতর্কিত।

চীনের ২ অঞ্চল:

হংকং ও মাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল। এছাড়া ৫টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ম্যান্ডল্যান্ডে।

পর্তুগালের ২ অঞ্চল:

আজোরেস ও মাদেইরা। আজোরেসে ২০২৫ সালে প্রথম স্থলভিত্তিক স্পেসপোর্ট চালু হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, ইত্তেফাক

আপনার মতামত