বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে -ওবায়দুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সেবামুখী হতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।
বিআরটিএর সেবার মান বৃদ্ধি, বিভিন্ন যানবাহন সেবায় গতি আনা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক অনিয়মকারীর জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের বদনাম হতে পারে না। সকলকে অনিয়মের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সেবামুখী হতে হবে।
বিআরটিএতে দালাল ধরতে ম্যাজিস্ট্রেটদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখনো দালালদের দৌরাত্ম্য আছে। অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে বাইরের সুবিধাভোগীদের সখ্যাতায় গড়ে উঠেছে এ চক্র।
মন্ত্রী চেয়ারম্যানকে শক্তহাতে এসব অনিয়মের চক্র ও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধের নির্দেশ দেন। ওবায়দুল কাদের বিআরটিএতে তদবির-বাণিজ্য বন্ধ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, যেসব কর্মকর্তা এসবের সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান শুরু করা হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই লাইসেন্সের খসড়া প্রিন্ট শুরু হয়েছে। কার্ডের মান এবং প্রিন্ট কোয়ালিটি চুক্তি অনুযায়ী হতে হবে। গুণগত এবং স্মার্টকার্ডের বৈশিষ্ট্য যা যা থাকার কথা তার কোনোটির সাথেই আপস করা যাবে না। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে, আর যেন দেরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে মনিটর করতে হবে। তিনি বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দ্রুত কার্ড সংগ্রহ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে গতি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে।
যানবাহনে ফিটনেস গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি, এক্ষেত্রে সেবা সহজীকরণ এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশের যেকোনো সার্কেল অফিস থেকে যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগে ফিটনেস দেয়া হতো এক বছরের জন্য, এখন দেয়া হয় দুই বছরের জন্য।
মন্ত্রী জানান, সরাসরি ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই ১৮টি ব্যাংকর চারশোর বেশি শাখা এবং বুথে মোটরযানের বিভিন্ন ফি জমা দিতে পারছে গ্রাহকগণ। সড়কে দুর্ঘটনা এখনো হচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এখন মূল লক্ষ্যই হতে হবে সড়কে দুর্ঘটনা কমানো, এই বিষয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।