প্রতিবন্ধী কার্ড কার্যক্রমে দুর্নীতি: টিআইবি

প্রতিবন্ধী কার্ড কার্যক্রমে দুর্নীতি: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্তকরণ, সুবর্ণ কার্ড ও ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ১০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তদবিরের মাধ্যমে এই সব সুবর্ণ কার্ড প্রদান করা হচ্ছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় প্রকাশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভাতা প্রাপ্তির কার্ড পেতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এনজিওদের একাংশ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে অনুদান পেয়ে থাকে। অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০ থেকে ৭০ হাজার টাকা অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আর প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির প্রথম কিস্তি পেতে ২৪% থেকে ৬৭% অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকে।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি পরিচালিত সেবা খাতে দুর্নীতি বিষয়ক জাতীয় খানা জরিপ ২০১৭ এর তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২৩.৪% খানাকে ভাতায় অন্তর্ভুক্ত হতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দিতে হয়েছে। এছাড়া সময়ক্ষেপণ, স্বজনপ্রীতির ও প্রতারণার শিকার যথাক্রমে ১৯.৩% খানা, ১১% খানা ও ৭.৯% খানা। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে যে নতুন ২ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতার আওতায় এসেছে ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ভাতার অর্থের অংশবিশেষ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রথমবার ভাতার বইয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার স্বাক্ষর লাগে বিধায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির প্রথম কিস্তি পেতে ২৪% থেকে ৬৭% অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকে।

এনজিওদের অনুদান সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শর্তসাপেক্ষে এনজিওদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকে। সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওদের একাংশ ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে অনুদান পেয়ে থাকে। অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০ থেকে ৭০ হাজার টাকা অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ দিতে হয় বিধায় এসব এনজিও অঙ্গীকারবদ্ধ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে না।

আর সভার কার্যবিবরণী সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে টিআইবি বলছে, বছরের নির্ধারিত লক্ষ অর্জনের জন্য কোনো কোনো উপজেলা কমিটি সভা না করেই সভাপতিসহ সকলের স্বাক্ষর গ্রহণ করে সভার কার্যবিবরণী তৈরি করে। এছাড়া গণপরিবহনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীসহ ব্যক্তিদের কার্ড থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত অর্ধেক ভাড়া না নিয়ে সম্পূর্ণ ভাড়া নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

আপনার মতামত