নির্ভয়ে খান খামারের মুরগির গোশত ডিম -কৃষিমন্ত্রী

নির্ভয়ে খান খামারের মুরগির গোশত ডিম -কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোল্ট্রি খামারে উৎপাদিত মুরগির গোশত, ডিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় জানিয়ে সবাইকে নির্ভয়ে তা খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

খামারিদের মধ্যে বুধবার আর্থিক প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফার্মের মুরগির গোশত খেলে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। কারণ ফার্মের মুরগিকে স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে বড় করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়।
“আমরা মুরগির গোশত পরীক্ষা করে দেখেছি আমাদের দেশে উৎপাদিত ফার্মের মুরগির মাংসে ক্ষতিকর কিছু নেই।”

অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
খামারের মুরগিকে টিকা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফার্মের মুরগিকে যে টিকা দেওয়া হচ্ছে তাও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়।”
ভুট্টায় তৈরি মুরগির খাবার স্বাস্থ্যসম্মত জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ভুট্টা দিয়ে মুরগির খাদ্য তৈরি হচ্ছে। অথচ মাত্র ১০ বছর আগেও দেশে মাত্র এক কোটি টন ভুট্টা উৎপাদন হত।”

মুরগির খাবার তৈরিতে ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহারের অভিযোগকে গুজব আখ্যায়িত করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে ছয় কোটি টন ভুট্টা দিয়ে যেখানে খাদ্য তৈরি হচ্ছে, সেখানে মানুষ কেন সাভারের ওই ট্যানারি বর্জ্য খুঁজতে যাবে? আর কতটুকুই বা ওই বর্জ্য হয়?”

তিনি নিজে খামারের মুরগি খান জানিয়ে গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে খাওয়ারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

দেশ এখন দানাদার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করে তিনি বলেন, ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। দেশের মানুষের পুষ্টির যোগান দিতে বছরে এখন ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন গোশত, ১৭০০ কোটি ডিম উৎপাদন হচ্ছে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, গ্রামীণ উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে যেন বেশি আয় করতে পারে তার জন্য আমরা সড়ক, কালভার্ট, সেতুসহ গ্রামীণ মানুষের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরিকে প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে শ ম রেজাউল করিম জানান, সরকার ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চার লাখ ৭৪০২ জনকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৭৮ হাজার মৎস্য চাষীকে প্রণোদনা হিসেবে ৫৬৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও দুই লাখ খামারিকে প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত