জাহাজ নির্মাণে আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে -বাণিজ্যমন্ত্রী
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের জাহাজ রপ্তানি হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের নাম বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করছে। আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ নির্মাণে। শুক্রবার বাংলাদেশে তৈরি বৃহত্তম দুইটি জাহাজ ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কসকে হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বলা হয়েছিলো বটমলেস বাস্কেট। বলা হয়েছিলো বাংলাদেশ টিকবে না। আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। আমাদের টার্গেট ডাবল ডিজিট গ্রোথ। তিনি বলেন, পৃথিবী হচ্ছে পার্টনারশিপ ব্যবসাক্ষেত্র। নৌপথে খরচ কমবে। আমরা ভারত থেকে বেশি সুবিধা নিতে পারি। শুধু মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে।
বড় দুটি জাহাজ ভারতে রফতানি:
অন্যদিকে, জেএসডব্লিউ সিংহগড় ও জেএসডব্লিউ লোহগড় নামে বাংলাদেশে তৈরি সবচেয়ে বড় দুটি জাহাজ প্রতিবেশী ভারতে রফতানি করলো বাংলাদেশ। প্রতিটি জাহাজ বিক্রি হলো ৫০ কোটি টাকা করে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে এ দুটি জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। আজ ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জাহাজ দুটি হস্তান্তর করা হয়। ভারতের ‘জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজ দুটি বুঝে নেয়।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি জাহাজের ধারণ ক্ষমতা ৮ হাজার ডিডব্লিউটি (ডেডওয়েট টনেজ)। তিনি বলেন,মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরুর দিন এ দুটি জাহাজ ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কসের কাছে হস্তান্তর করা হলো। আট হাজার ডিডব্লিউটি ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট কার্গো জাহাজ এর আগে কখনও বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। এই দুটি জাহাজই এখন পর্যন্ত দেশে নির্মিত সবচেয়ে বড় জাহাজ। ভারতের কাছে রফতানি করা এ দুটি জাহাজ বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস ওয়েস্টার্ন মেরিনকে চারটি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। এই প্রকল্পটি ভারত থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ মূল্যের রফতানি আদেশ। এরমধ্যে প্রথম দুটি জাহাজ জেএসডব্লিউ রায়গড় ও জেএসডব্লিউ প্রতাপগড় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর দুটি জাহাজ জেএসডব্লিউটি সিংহগড় ও জেএসডব্লিউ লোহগড় হস্তান্তর করা হলো। প্রতিটি জাহাজের বিক্রয় মূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা করে চারটি জাহাজের মূল্য ২০০ কোটি টাকা।