‘উধাও’ রেলপথের ক্লিপ, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সিলেট সংবাদদাতা: কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা রেল স্টেশনের অদূরে হোসেনপুর নামক স্থানে আবারও শনিবার মালবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ফলে সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বরমচাল স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম কাজল জানান, সিলেটগামী তেলবাহী একটি ট্রেন বেলা ২টা নাগাদ ভাটেরা স্টেশন অতিক্রম করার পর হোসনপুর নামক স্থানে একটি বগির ৪টি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে।

এভাবেই দেশজুড়ে বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটের একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে রেলের বেহাল দশার চিত্র। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। স্লিপারের লুজ কানেকশনের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা। এতে কমছে সিলেট আখাউড়া রেল পথে যাত্রীর সংখ্যা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেলওয়ের বিধান অনুযায়ী মোটর-ট্রলিতে করে লাইন পরীক্ষা করার কথা। কিন্তু কুলাউড়া স্টেশন থেকে সিলেট অভিমুখে বা শ্রীমঙ্গল স্টেশন অভিমুখে এ ধরণের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা নেই বললেও চলে। ফলে লোহা ব্যবসায়ীরা রেললাইনে স্পাইক খোলার বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে টাই প্লাট স্পাই, ক্লিপস ও ফিসপ্লেট খুলে নিয়ে যায়। খাঁটি লোহার এসব সরঞ্জামের চড়া দাম থাকায় প্রতিনিয়ত তা চুরি হচ্ছে। রেলওয়ের টহল ও মোটর ট্রলি না থাকায় নির্বিঘেœ এসব চুরি করতে পারে।

এদিকে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ১৭৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১৩টি সেতু মরণফাঁদ। যদিও সচেতন মহলের মতে, এই সেকশনের সবগুলা সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ।

রেলওয়ের তালিকায় থাকা এই ১৩টি সেতুর ওপর ট্রেন পারাপারে ডেড স্টপ’ (সেতুর আগে ট্রেন থেমে যাবে, এরপর পাঁচ কিলোমিটার গতিতে চলা শুরু করবে) ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট থেকে মোগলাবাজার স্টেশন পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে আটটি এবং মোগলাবাজার থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচটি সেতু ডেড স্টপ’ এর আওতাধীন।

কুলাউড়া স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এ রেলপথের যন্ত্রাংশ পুরনো হওয়াতে ট্রেন চলাচলের সময় ক্লিপ-হুক স্লিপারও রেললাইন থেকে খুলে উড়ে যায়। কাঠের স্লিপার পড়ে যাওয়াতে ট্রেনের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক স্লিপার বেঁকে যায়। এতে লাইন দুর্বল হয়ে পড়ে।

আপনার মতামত