শত বছর পর অ্যাথেন্সে প্রথম মসজিদ
ডেস্ক: ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর কট্টরপন্থী গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সে প্রথম মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। ১০০০ বর্গ মিটারের নতুন মসজিদে অবশ্য কোনো মিনার থাকছে না।
১৮৩৩ সালে গ্রিসে উসমানিয়া তুর্কিদের শাসন অবসানের পর থেকে অ্যাথেন্সে কোনো মসজিদ ছিল না। গত বছর গ্রিসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োনিস আমানাতিডিদস পার্লামেন্টে বলেছিলো, অ্যাথেন্সই হলো একমাত্র ইউরোপিয়ান রাজধানী যেখানে ‘এ ধরনের ধর্মীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত।’
মুসলমানরা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থানে নামাজ পড়তেন। বিশেষ করে জনাকীর্ণ বেসমেন্ট কিংবা অন্ধকার গুদামঘরই তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হতো।
গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি সিপ্রাস মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বলেছিলো, আমাদের রাজধানীতে মুসলিম বাসিন্দাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং সেইসাথে আমাদের মূল্যবোধের বাধ্যবাধকতার কারণেও আমরা তা করতে যাচ্ছি।

আগামী এপ্রিল মাসে নতুন মসজিদটি নামাজের জন্য খুলে দেয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোতলাবিশিষ্ট এই মসজিদটিতে এক হাজার বর্গমিটার জায়গা থাকছে। স্থানটি একসময় নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
গ্রিসের মুসলিম এসোসিয়েশনের নারী মুখপাত্র অ্যানা স্টামাউ বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম, আমাদের তরুণরা যাতে আইনের দৃষ্টিতে এবং সমাজের দৃষ্টিতে নিজেদের সমান ভাবতে পাবে, সেজন্য আমাদের একটি মসজিদের দরকার।
অ্যানা ধর্মান্তরিত মুসলিম। গ্রিসের রাজধানীতে মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা ছিল অনেক দিন ধরেই। সেই ১৮৯০ সালেও পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে হয়নি। এমনকি এবারো মসজিদ নির্মাণের গতি ত্বরান্বিত করার বিলে ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙন ধরে, উগ্র ডানপন্থীরা সিপ্রাস সরকার থেকে বের হয়ে যায়।