উচ্চবর্ণে বিয়ে করায় মেয়ের সামনেই জামাইকে পোড়াল শ্বশুর!

ডেস্ক: ভারতে বর্ণ প্রথা যে এখনও কতটা প্রখর তা দেখা গেল সম্প্রতি দেশটির হায়দরাবাদের একটি ঘটনায়। উচ্চবর্ণের মেয়েকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ অম্বজি নরেশ (২৩) নামের এক যুবককে তাঁর স্ত্রীর সামনেই খুন করে পুড়িয়ে দিল তাঁরই শ্বশুর।

পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়ে তুমল্লা স্বাতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নরেশের। কিন্তু নরেশ নিন্মবর্ণের হওয়ায় স্বাতীর পরিবার এই সম্পর্কটা কোনোভাবেই মানতে চাইছিল না। অবশেষে মাস দুয়েক আগে বাড়ির অমতেই নরেশকে বিয়ে করে স্বাতী। বিয়ের পর দু’জনে মুম্বাই চলে যায়। মেয়ে এত বড় কাণ্ড ঘটালো, সেটা মেনে নিতে পারেনি স্বাতীর বাবা শ্রীনিবাস রেড্ডি। তখনকার মতো বিষয়টা সামলে নিয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরে আসতে বলে সে। কোনো ঝামেলা না হওয়ার আশ্বাসও দেয় শ্রীনিবাস। বাবার কথায় আশ্বস্ত হয়ে নরেশকে নিয়ে হায়দরাবাদের ভঙ্গিরে পৌঁছে স্বাতী। সেখানে তাদের নিতে আসে স্বাতীর বাবা, কাকা এবং ভাই।

অভিযোগ, স্বাতীকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে গেলেও নরেশকে সঙ্গে নিয়ে যায়নি তারা। সে দিন থেকেই আর খোঁজ মেলেনি নরেশের। তার সঙ্গে বার বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় নরেশের পরিবার পরে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। শুরু হয় তদন্ত। কিছু দিন পর স্বাতীদের বাড়ির পাশের একটি ঝোঁপ থেকে অর্ধদগ্ধ এক যুবকের দেহ মেলে। নরেশের পরিবারকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা নরেশের দেহ সনাক্ত করে। স্বাতীর পরিবারের বিরুদ্ধে খুন করার অভিযোগ আনে নরেশের পরিবার। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শ্রীনিবাস রেড্ডি ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে উঠে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। জেরায় অভিযুক্তেরা নরেশকে খুনের কথা স্বীকার করে।

অভিযুক্তেরা জানায়, ওই দিন নরেশকে কাছেরই একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে খুন করে। তারপর তার দেহ নিশ্চিহ্ন করতে তার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আর সবচেয়ে ভয়ানক যে বিষয়টি তা হল, গোটা ঘটনাটাই ঘটানো হয়েছে স্বাতীর চোখের সামনেই! রাচাকোন্ডার পুলিশ কমিশনার মহেশ ভগবত জানায়, এই দৃশ্য দেখার পর মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্বাতী। বিষয়টি নিয়ে যাতে মুখ না খোলে, সে জন্য প্রতিদিন শাসানো হত স্বাতীকে। এই ভাবেই চলছিল কয়েক দিন। তার চোখের সামনে স্বামীকে খুন হতে হল, আর সেই হত্যাকারী তার বাবা-কাকা-ভাই! এটা কোনোভাবে মেনে নিতে পারেনি স্বাতী। মানসিক অবসাদে এবং স্বামী হত্যার শোক সহ্য করতে না পেরে স্বাতীর শেষ পরিণতিও করুণ হয়। গত ১৫ মে আত্যহত্যা করে সে।  সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা