রোযাদারদের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিষয়
ডেস্ক: রোযাদারদের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় অবশ্যই জানা উচিত এবং সে অনুযায়ী আমল করা উচিত। কেননা আমরা রোজা রাখি মহান আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করে নিজের আত্মশুদ্ধি করার জন্য। আর এজন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
১. হারাম বস্তু দেখা যাবে না। যেমন বেগানা নারী-পুরুষ পরস্পরকে দেখা যাবে না। এছাড়া ছবি, টিভি ইত্যাদি দেখা যাবে না। অথবা যে বস্তু দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার দিক থেকে মন ঘুরে গিয়ে অন্য দিকে চলে যায়, তাও দেখা যাবে না। এককথায় পরিপূর্ণভাবে চোখের হিফাযত করতে হবে।
২. জিহ্বা হিফাযত করতে হবে। মিথ্যা কথা, গীবত, কুটনামী, অপবাদ, বকাবকি, গালিগালাজ, বেহুদা শপথ, ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি হতে জিহ্বা হিফাযত করতে হবে।
৩. কান হিফাযত করা। যা বলা বৈধ নয় তা শোনা ও বৈধ নয়। যেমন গান-বাজনা, অশ্লীল কথাবার্তা, গীবত ইত্যাদি শোনা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছ, গীবত করা যেমন কীবরা গুনাহ তেমনি তা শোনাও কবীরা গুনাহ। সুতরাং এমনটি শোনা থেকে কানকে বিরত রাখতে হবে।
৪. দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নাজায়িয কাজ হতে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। হাত দ্বারা নাজায়িয বস্তু স্পর্শ করা যাবে না; পা’কে খারাপ কাজের দিকে পরিচালনা করা যাবে না, উদরকে হারাম বস্তু দ্বারা পূর্ণ করা যাবে না।
৫. সাহরী এবং ইফতার একেবারে পেট ভরে না খাওয়া।
৬. রোযা কবুল হওয়ার আশাও রাখতে হবে এবং কবুল না হওয়ার ভয়ও রাখতে হবে।
৭. একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকের জন্য রোযা রাখতে হবে।
৮. সকল হারাম কাজ বর্জন করে সকল হালাল কাজে মশগুল হতে হবে।
৯. যাকাত, ফিতরাসহ অন্যান্য ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল, মুস্তাহাব আমল করতে হবে।
১০. হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ পালন করতে হবে।
১১. কেউ রোযাদারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে, ঝগড়াঝাটি করলে রোযাদার তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করবে এবং ঝগড়া-ঝাটি থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে রোযাদার বলে এ পরিবেশ থেকে সরে যাবে এভাবে যে, আমি রোযাদার তোমার সাথে খারাপ আচরণও করতে পারবো না এবং ঝগড়াও করতে পারবো না।
১২. মহান আল্লাহ পাক উনার রঙে রঙিন, মতে মত এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হওয়া।
১৩. অধিকন্তু রোযাদার একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অপর কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করবে না।
এ বিষয়গুলো সামনে রেখে রোযাদার চলতে পারলে আশা করা যায় সে রোযাদার পরিপূর্ণ প্রতিদানে ধন্য হবে এবং তার রোযাও কবুল হবে। অন্যথায় এই পবিত্র হাদীছ উনার মধ্যে বর্ণিত পরিণতি ভোগ করতে হবে। অনেক রোযাদার এমনও আছে, যাদের রোযার বিনিময়ে পিপাসিত ও অনাহারে থাকা ব্যতীত অন্য কোনো ফল লাভ হয় না।