রাজধানীতে নির্মানাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে ১ জনের মৃত্যু

ঢাকা: মালিবাগ রেলগেইট এলাকায় নির্মাণাধীন মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন দুইজন।

রোববার রাত সোয়া ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই মুহম্মদ রাশেদ রানা জানান।

তিনি বলেন, ক্রেন দিয়ে ফ্লাইওভারের গার্ডার তোলার সময় তার ছিঁড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ফ্লাইওভারের একটি ‘গার্ডার’ ক্রেন দিয়ে তুলতে গিয়ে রশি ছিড়ে নিচে ছিটকে পড়ে হেভি ওয়েট গার্ডার। এতে স্বপন নামে এক পথচারীর (৪৩) তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়। পা হারিয়েছেন এক প্রকৌশলী ও আরেক পথচারী। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতদের মধ্যে একজন তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী পলাশ ও পথচারীর নাম নুরুন্নবী (৪০)। দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী পলাশ।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজনের চিৎকার-আহাজারীর পর হতাহতদের উদ্ধার করা হলেও রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে থাকে।

সকালে শত শত মানুষের ভিড় জমে ফ্লাইওভারের কাছে। তারা বিচার দাবি করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশে বলেন, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বিকেলে লোক জড়ো হয়ে সেই ভিড় না দেখা গেলেও, পাশ দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়া মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকা কাজ শুরুর পর থেকেই হয়ে যায় মানুষ ও যান চলাচলের অনুপযোগী। এছাড়া এখানে প্রায় ৫শ’ বেশি দোকান রযেছে। ধীর নির্মাণ কাজের ফলে দোকানদারদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। একইসঙ্গে প্রচণ্ড ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচলকারী ও স্থানীয়দের শ্বাস-প্রশ্বাসেও অনেক সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ করিম বলেন, বেহুদা ফ্লাইওভার দিয়ে রাজধানীকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানো হচ্ছে। লাভ কি হচ্ছে এসব করে। অনেকগুলোতে ফ্লাইওভার হলো, কোথাও যানজটের সমাধান হয়েছে? হয়নি। বরং বছরের পর বছর লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

গতরাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখি পিলার বা গার্ডার ভেঙে পড়েছে। আহতদের আহাজরী শুনে রেলগেটে এসে দেখি গার্ডারের নিচে মানুষ চাপা পড়ে আছেন। তাদের চিৎকার শুনলেও কিছুই করার ছিল না আমাদের। পরে ক্রেন এনে গার্ডার উঠিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরমধ্যে একজন মারা গেছেন।

ওই রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতকারী সাইয়্যিদুল বাশার বলেন, ভয়ে আমি কখনও এই গার্ডারের নিচ দিয়ে হাঁটি না। সবসময় আতঙ্কে থাকি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তমা কনস্ট্রাকশন ও দায়িত্বশীল সরকারি প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটলো।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটার শঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, এখানে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত। এছাড়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের উচিত তদন্ত করে তা প্রকাশ করা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

এলাকাবাসীর দাবির পর ঘটনা তদন্তে সোমবার দুপুরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মেয়র এলাকবাসীর অভিযোগ শুনেন, ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত