হিমাগারের ভরসায় রাজশাহীতে বাড়ছে আলু চাষ

রাজশাহী : হিমাগারে সংরক্ষণের ভরসায় প্রতি বছরই আলুর চাষ বাড়ছে রাজশাহীতে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দুই বছরে আবাদি জমি বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর। একই সাথে ফলনও মিলছে প্রত্যাশামাফিক। সব মিলিয়ে, এই এলাকার আর্থিক কর্মকা-ও পেয়েছে নতুন মাত্রা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষণ করা আলু চাহিদা মিটিয়ে রফতানী করা গেলে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি।

রাজশাহীর কৃষক মুহম্মদ নূরুল ইসলাম। এ বছর ৩০ বিঘা বর্গা জমির পুরোটাইতেই আলুর আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। আশা করছেন, মৌসুম শেষে ফলন পাবেন বিঘাপ্রতি অন্তত ১শ মণ। তবে সব আলু অল্প সময়ে বিক্রি করা যায় না কোনো বছরই। তাই ভরসা, স্থানীয় হিমাগার।

এসব হিমাগারে, ব্যস্ততা বাড়ে মৌসুম এলে। টানা আটমাস নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় আলু। এরপর উপযুক্ত দরে বিক্রি করা হয় বাজারে। বিপরীতে, নির্দিষ্ট হারে, মাশুল নিয়ে থাকেন হিমাগার মালিকরাও। আর এসব কারণে, চাঙ্গা হয়ে ওঠে এলাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড।

উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রয়োজনের তাগিদেই এ অঞ্চলে বেড়েছে হিমাগার। যা লাভজনক করতে দরকার নিরবিচ্ছিন্ন এবং কম খরচের বিদ্যুৎ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে রাজশাহী জেলায় আলু চাষ হয়েছিল প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। আর দুই বছর পর তা দাঁড়ায় ৪৩ হাজার হেক্টরে। তাই, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুকে কেন্দ্র করে চাষ বৃদ্ধির এই প্রবণতা শক্ত করবে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে।

রাজশাহী জেলায় এ বছর আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ মেট্রিকটন। যার বেশিরভাগই উত্তোলন করে পাঠানো হচ্ছে জেলার ৩৫টি হিমাগারে।

আপনার মতামত