মেহেরপুরে কপি চাষে বাম্পার ফলন

মেহেরপুর: বরাবরের মতো এবারও শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে মেহেরপুরে। বিশেষ করে জেলার কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে কপি চাষে। চলতি বছরে জেলায় ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে কপির চাষ হয়েছে। ৯০ দিনের মধ্যে কপির চাষ সম্পন্ন হওয়ায় জেলার চাষিরা কপি চাষ নিয়ে মেতে আছে। হাইব্রিড জাতের কপি চাষ করে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

মেহেরপুর জেলার সবজি চাষের গ্রাম বলে পরিচিত সাহারবাটি, শ্যামপুর, বেলতলাপাড়া সহ আশপাশের গ্রামের সবজি চাষিরা কপি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। কেউ নিজের জমিতে, কেউ বর্গা নিয়ে, কেউবা কপি চাষকরতে অর্থসংকট মোকাবেলায় হালের বলদ বিক্রি করে কপি চাষ করেছে।

সদর উপজেলার বেলতলাপাড়া গ্রামের কপি চাষি হাসেম আলী বলেন, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কপির চাষ করেছি। প্রতিটা কপি দুই থেকে তিন কেজি ওজন হয়েছে। প্রতি বিঘা কপি চাষ করতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে কপির দাম ভাল হওয়ায় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। খরচ বাদে এ বছর ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার কপি বিক্রি করতে পারব এ বছর।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কপি চাষি তেজের আলী বলেন, গত বছর দুই বিঘা জমিতে কপির চাষ করেছিলাম। খরচ বাদে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। কপি চাষে পরিশ্রম একটু বেশি হলেও লাভজনক হওয়ায় এ বছর আরো তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে কপির চাষ করেছি। এ বছর আবহাওয়া কপি চাষের অনুকূলে থাকায় জমিতে কপির ভাল ফলন হয়েছে। খরচ বাদে তার ২ লাখ টাকা লাভ হবে বলে জানান।

সবজি ব্যবসায়ী বাবু হোসেন জানান, এবার মেহেরপুরের কপি উৎপাদন ভাল হয়েছে। প্রতিদিন মেহেরপুর থেকে ঢাকা, চিটাগাং, সিলেট সহ বিভিন্ন জেলায় ২০ তেকে ২৫ ট্রাক কপি বাজারজাত হচ্ছে। কপিচাষের কারণে এবার এই সময়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্নগ্রাম ঘুরে দেখা যায় জমিতেই দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকার ক্রেতারা কপি নিয়ে নিয়েছে। জমি থেকে সেই কপি তুলে ট্রাকলোড করে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, বরিশাল সহ বিভিন্ন জেলায়।

তেরঘরিয়া গ্রামের পাতাকপি চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান তিনি হালের বলদ বিক্রি করে তিনবিঘা জমিতে কপিচাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ উঠে লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, জানান এবার সবজি চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে রোগ-বালাই ছাড়াই ফলন ভালো হয়েছে। এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে প্রতি বিঘা কপি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার কপি বিক্রি হচ্ছে।

আপনার মতামত