ভারতের চীন কূটনীতির প্রকাশ হয় বন্দুকের নলে

বন্দুকের নলে ভারতের চীন কূটনীতি

নিউজ ডেস্ক : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মামাল্লাপুরামে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, ভারতের সেনাবাহিনী তখন দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে চীনের সাথে নিয়ন্ত্রণ রেখার ১০০ কিলোমিটার ভেতরে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে।

চীন-ভারত সীমান্তে যে কোন হামলা দ্রুত প্রতিহত করতে ও পাল্টা হামলা চালাতে ২০১৩ সালে এই এমএসসি গঠন করেছে।

যদিও এই মহড়ার সাথে প্রেসিডেন্ট শি’র ভারত সফরের কোন ধরনের সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে নয়াদিল্লী, এরপরও মহড়ার সময়টিকে কোনভাবেই কাকতালীয় বলা যাবে না। দিল্লী এই বার্তা দিতে চায় যে, সীমান্তে যে কোন সামরিক চাপ মোকাবেলার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আসলেও, দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে বৈঠকের আগ দিয়ে সীমান্তে শক্তি প্রদর্শন করাটা একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালের এপ্রিলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনের পিপলস লিবারেশান আর্মির (পিএলএ) সাথে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা দৌলত বেগ ওলডিতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে শি যখন ভারত সফর করে, তখনও ডেমচোকের কাছে ভারতীয় সীমানার ভেতরে পিএলএ’র রোড নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল চীনা ও ভারতীয় সেনারা।

সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে – ভারত, চীন ও ভুটানের সংযোগস্থল দোকলামে। ওই এলাকায় চীনা সেনারা সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করলে ভারতীয় সেনারা তাদের বাধা দেয় এবং ফলে দুই বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হওয়ায় সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এই অচলাবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত ছিল।

এই অবলাবস্থা দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয়েছিল এবং এর প্রশমনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়েছিল। এই উত্তেজনার কারণে ২০১৭ সালের আগস্টে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণ প্রায় বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

এই ধরনের ঘটনার কারণ হলো ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এমনকি ২১ দফা সীমান্ত আলোচনার পরও দুই দেশ তাদের আঞ্চলিক সীমানা চুড়ান্ত করতে পারেনি। তবে, বেইজিং এবং দিল্লী উভয়েই আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে সঙ্কট মোকাবেলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সে কারণে এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টির পরও দুই দেশের মধ্যে একটিও গুলি বিনিময় হয়নি।

১৯৮৭ সালের নভেম্বরে যে অস্টম দফা সীমান্ত আলোচনা হয়েছিল, সেখানে প্রথমবারের মতো দুই দেশ জোর দিয়েছিল যে, সীমান্তে যে কোন ধরনের সশস্ত্র সঙ্গাত এড়ানো দরকার। ১৯৯৩ সালে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা-বৃদ্ধির জন্য প্রথমবারের মতো চুক্তি হয় – যেটি বর্ডার পিস অ্যান্ড ট্র্যাংকুইলিটি এগ্রিমেন্ট নামে পরিচিত।

ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, দিল্লীর মধ্যে একটা গভীর বিশ্বাস রয়েছে যে, চীনের বিরুদ্ধে কূটনীতিকে বন্দুকের নল দিয়েই প্রয়োগ করতে হবে। চীনের ব্যাপক সামরিক আধুনিকায়ন, তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের অগ্রগতি গত দুই দশকে যেভাবে এগিয়েছে, সেটা সীমান্তে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রতিরোধের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

আপনার মতামত