গোল্ডেন রাইসের অবমুক্ত শিগগিরই -কৃষিমন্ত্রী

গোল্ডেন রাইসের অবমুক্ত শিগগিরই

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোল্ডেন রাইসকে বহুজাতিক এগ্রোবিজনেসের হাতিয়ার এবং তা এদেশে চাষ হলে দেশের নিজস্ব ধানের জাতগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে প্রভৃতি অভিযোগ উঠার পরও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এই গোল্ডেন রাইস বাংলাদেশে অবমুক্তের কথা বলেছেন।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিজ্ঞানীরা ফসলের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করায় ফসলের নিবিড়তা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্বৃত্তও রয়েছে। অচিরেই ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস অবমুক্ত করা হবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীদের আধিক তাপ সহনশীল গমের জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশে গমের আবাদ হচ্ছে। এছাড়া ভুট্টা কখনই আমাদের ফসলের তালিকায় ছিল না, নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করায় এর উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আগামী মৌসুমে প্লোট্রি খামারের জন্য ভুট্টা আমদানি করতে হবে না, দেশেই চাহিদার সম্পূর্ণ উৎপন্ন হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বহুজাতিক এগ্রো কর্পোরেশনের বীজ রাজনীতির নতুন সংযোজন জেনেটিক্যালী মডিফাইড (জিএম) ধান গোল্ডেন রাইস। গোল্ডেন রাইস প্রকল্পের সাথে জড়িত মূলত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউ (ওজজও), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, ব্রি (ইজজও) এবং মার্কিন সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। ভুট্টা অথবা ড্যাফোডিল ফুল থেকে নেয়া ‘ফাইটোন সিনথেজ’ জিন এবং মাটির এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থেকে নেয়া ‘ক্যারোটিন ডিস্যাচুরেজ’ জিন ধানের জিনোমে প্রবেশ করিয়ে এই গোল্ডেন রাইস প্রস্তুত করা হয়। এই দুইটি জিন ধানের এন্ডোস্পার্মে বিটা ক্যারোটিন (ভিটামিন এ এর পূর্বের অবস্থা) তৈরিতে কাজ করে। বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস প্রবর্তনের জন্য বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটা এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মাঝে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ব্রি বাংলাদেশের ব্রি-২৯ জাতের ধান সিনজেনটা কোম্পানিকে দিয়েছে জেনেটিক্যালি মডিফাই করার জন্য। সিনজেনটা ব্রি-২৯ জাতে উক্ত দুটি জিন ট্রান্সফার করে গোল্ডেন রাইস নামে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপনার মতামত