ওয়াশিংটনের কাছে আরও বিনিয়োগ-বাণিজ্য সুবিধা চাইবে ঢাকা

উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটনের কাছে ঢাকা আরও বাণিজ্য সুবিধা ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ চাইবে। আগামী ২২ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই সহযোগিতা চাইবে ঢাকা।

বৈঠকে ঢাকার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হ্যালি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল, প্রতিরক্ষাসহ একাধিক খাত নিয়ে আগামী বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, এবারের বৈঠকে কোন ইস্যুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের ওপর। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব ইস্যুতেই আলোচনা করতে ঢাকার শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ঢাকা কী কী সুবিধা দিচ্ছে, তা উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাবে ঢাকা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করছে বাংলাদেশে। এরই মধ্যে ভারত, চীনসহ একাধিক দেশ এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা নিচ্ছে। বৈঠকে সুযোগ পেলে ঢাকা ওয়াশিংটনকে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা নেওয়ার প্রস্তাব দেবে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিনিয়োগের জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে উৎসাহ দেওয়া হবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে সুশাসন, বিশেষ করে সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এবং এই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের ওপর জোর দেবে ওয়াশিংটন। এর আগে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, পোশাক খাতের সুশাসনসহ একাধিক বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তাই এবারের বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, সুশাসন ও নির্বাচন বিষয়ে আলাপ করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে ঢাকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে একাদশ সংসদ নির্বাচন একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। কারণ এর আগের নির্বাচনে কখনো এত কম সহিংসতা হয়নি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণও ছিল। বৈঠকে নির্বাচনের এই তথ্যগুলো পরিসংখ্যানসহ ওয়াশিংটনকে জানাবে ঢাকা।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে (ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি) সমমনা দেশ বাংলাদেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে সঙ্গে নিয়েই বাস্তবায়ন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। যদিও এই ইস্যুতে এখনো দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো রফা হয়নি।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই ওয়াশিংটনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে গত অক্টোবরে ঢাকা সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সিপাল উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলকে সমর্থন করায় এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সিপাল উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন একটি আইনের ঘোষণা দিয়েছে। এই আইনের অধীনে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়া হবে। এই সব কিছুই করা হচ্ছে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য। আমরা সবাই মিলে এই কৌশলকে (ইন্দো-প্যাসিফিক) সফল করতে চাই। তার মানে এই নয় যে, এই কৌশল চীনের নেওয়া উন্নয়ন কৌশলের (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) পাল্টা জবাব। এই অঞ্চলের উন্নয়নে চীনের নেওয়া ভূমিকা খুবই জটিল। আর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১০ বছরে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যই ব্যয় করতে হবে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা একক কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের বিভিন্ন খাতে ঢাকার যে সব সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার শতভাগ আদায়ের চেষ্টা চালানো হবে।