আবেদন ছাড়াই ৯০ লাখ টাকার ঋণ, ব্যাংক ম্যানেজারসহ ৫ জনের নামে মামলা
সাতক্ষীরা সংবাদাদাতা: প্রায় বছর খানেক আগে একজনের (যিনি ব্যাংক হিসাব খুলবেন) অনুরোধে ব্যাংকে হিসাব খোলার জন্য নির্ধারিত ফরমে সই করেছিলেন শেখ অহিদুল ইসলাম। এরপর তিনি ওই ব্যাংকে কোনোদিন যাননি এমনকি লেনদেনও করেননি। পরে অন্য ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড করতে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে দেখা যায়, তার ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এমনই ঘটনা ঘটেছে এনআরবিসি ব্যাংকের সাতক্ষীরার কলারোয়া শাখায়।
এ ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজারসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে আসামি করে খুলনার দৌলতপুর থানায় মামলা করেছেন অহিদুল ইসলাম। মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, এনআরবিসি ব্যাংকের কলারোয়া শাখায় একটি হিসাব খোলার জন্য একটি ফরমে শেখ অহিদুল ইসলামের সই নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম শেখ। এ বছর খুলনার ব্র্যাক ব্যাংকে একটি ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট দেখা যায়, কলারোয়ার এনআরবিসি শাখায় তার ৯০ লাখ টাকার টাইম লোন রয়েছে, যা চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছে। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারী।
এই হিসাবে ০৬/০৯/২০২১ থেকে ০৮/১১/২০২১ পর্যন্ত ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে চেক বই গ্রহণ, পে অর্ডার এমনকি ব্যাংকের সুদও পরিশোধ করা হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংক কলারোয়া শাখার ম্যানেজার কাজী মোশারেফ হোসেন, ম্যানেজার (অপারেশন) শাহেদ শরীফ, জুনিয়র অফিসার বদিউর রহমান, ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম শেখসহ পাঁচ অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের নামে জাল জালিয়াতি করে ঋণ দেওয়া হয়।
রিকুইজিশন স্লিপ, ঋণের জন্য আবদেন না করা এবং লেনদেনের কোনো অ্যালার্ট মেসেস মোবাইলে না আসায় মামলাটি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী অহিদুল ইসলাম।
দৌলতপুর থানা মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য দুদক খুলনা কার্যালয়ে পাঠায়। দুদক খুলনা উপপরিচালক নাজমুল আহসান বলেন, তারা মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) অভিযোগটি পেয়েছেন। প্রধান কার্যালয়ের অনুমতির পর তারা তদন্ত শুরু করবেন।
এ ব্যাপারে এনআরবিসি ব্যাংকের কলারোয়া শাখার ম্যানেজার কাজী মোশারেফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঋণের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শেখ অহিদুল ইসলাম অভিযোগ করার পর এই টাকা সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহকের কোনো অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন।
ব্যাংকে না গিয়ে কোনো আবেদন ছাড়াই ৯০ লাখ টাকা ঋণ কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বারবার টাকা সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এনিয়ে নিউজ না করার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে বলেন, ঠিকাদারি কাজের বিপরীতে এই ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপাারে মামলার বাদী শেখ অহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনোদিন ওই ব্যাংকে যাননি এবং হিসাব খোলা ফরম ছাড়া কোনো কাগজে সই করেননি। তিনি কোনো লেনদেন বা চেক বইয়ের জন্য আবেদনও করেননি। সেখানে ৯০ লাখ টাকা ঋণের বিষয়টি বড় ধরনের জাল-জালিয়াতি। এরসঙ্গে ব্যাংকের বড় সিন্ডিকেট চক্র জড়িত। ব্যাংকে অভিযোগ করার পর টাকা সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ অহিদুল।