১৫১৩ সালে নির্মিত উচাইল শাহী মসজিদ
সিলেট সংবাদদাতা: স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন হবিগঞ্জের উচাইল শংকরপাশা শাহী মসজিদ (গায়েবি মসজিদ)। মসজিদটি সুলতানি আমলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম। সদর উপজেলার রাজিউরা ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে প্রায় ছয় একর জমির ওপর কালের সাক্ষী হয়ে আছে মসজিদটি।
অত্যন্ত চমৎকার কারুকাজ আর নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। উন্নতমানের প্রলেপহীন পোড়া ইট কেটে সেঁটে দেওয়া হয়েছে ইমারতে। দেয়ালের বাইরের অংশে পোড়া ইটের ওপর বিভিন্ন নকশা এবং অলঙ্করণ সহজেই মুসল্লি ও দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মসজিদটি লাল বা রক্তিম বলে অনেকে লাল মসজিদ’ বলে থাকেন। আবার টিলার ওপরে বলে টিলা মসজিদ’ও বলা হয়। দুটি মিলিয়ে লালটিলা মসজিদ’ও বলা হয়। তবে অনেকের কাছে এটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত।
জানা যায়, ১৫১৩ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন শাহ মজলিশ আমিন নামের এক বুজুর্গ ব্যক্তি। পরবর্তীতে মসজিদের সুদৃশ্য ইমারত বা ভবন নির্মাণ করা হয় সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে। ইমারতটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই মাপের (২১ ফুট ৬ ইঞ্চি)। বারান্দা সাড়ে তিন ফুটের বেশি।
একে অনেকে চার মিনার মসজিদ বলে থাকেন। কেননা মূল ভবনের ওপর একটি বড় মিনার এবং বারান্দার ওপর দেখতে পাওয়া যায় তিনটি ছোট মিনার। দরজা-জানালা আছে ১৫টি। দরজা ও জানালা প্রায় একই আকৃতির। সব দিকের দেয়ালের পুরুত্ব পাঁচ ফুটের বেশি। পশ্চিম দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১০ ফুট। মসজিদে ছয়টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ আছে। প্রধান কক্ষের চার কোণে ও বারান্দার দুই কোণে। উপরের ছাদ আর প্রধান প্রাচীরের কার্নিশ নির্মাণ করা হয়েছে বাঁকানোভাবে। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে বড় দিঘি। এটি মসজিদের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি ক্রমেই ঐতিহ্য হারাচ্ছে।