নিহত নয় সন্ত্রাসী ও গুলশান হামলাকারীরা একই গ্রুপের, সবাই উচ্চবিত্ত
ঢাকা : রাজধানীর কল্যাণপুরে সোয়াটের নেতৃত্বাধীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গি ও গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিরা একই গ্রুপের সদস্য বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। জঙ্গি আস্তানায় চালানো অভিযান ‘স্টর্ম-টোয়েন্টি সিক্স’ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে অভিযান ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, কল্যাণপুরে সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযানে নিহতদের পোশাক, কথার ধরন, ব্যবহার্য জিনিসপত্র সবকিছু দেখে মনে হয়েছে তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত ও সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর। নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে যথা সময়ে নাম পরিচয় জানানো হবে। সোয়াট টিমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সহায়তা করেছে থানা পুলিশসহ ডিএমপির অন্যান্য সদস্যরা।
অভিযানে একজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে।’
ব্রিফিংয়ের কিছুক্ষণ আগেই কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে মোট ১১টি গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। এরমধ্যে একটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আস্তানা থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি বিস্ফোরক, ৪টি পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি, ১টি তলোয়ার, ৩টি অটোমেটিক ছুড়ি, ৭টি ছোট ছুড়ি এবং বেশ কিছু আইএস লেখা কালো কাপড় পাওয়া গেছে।
এরআগে, সোমবার দিবাগত রাত ১টার কিছু পর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বিল্ডিং নামের ৫ তলা বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ।
সে সময় বাড়ির তিনতলা পর্যন্ত ওঠার পর পাঁচতলা থেকে দুই যুবক নেমে এসে গুলি চালালে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গুলি লাগে। একই সঙ্গে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলও নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে হাসান নামে এক জঙ্গি আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি বিনিময় চলে। পরে পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখে ভোরে সোয়াত, পুলিশ, র্যাব ও ডিবি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।