সরকারী অফিসে ‘নো দালাল, নো সার্ভিস’!
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর বগুড়া অফিস দালালের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তারা বলছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে এসে প্রায় প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে।
এই অফিসে দালাল ছাড়া কোনো কাজই হয় না। এখানে অনেকটা ‘নো দালাল, নো সার্ভিস’ নীতিতেই চলে। অভিযোগ রয়েছে পিওন থেকে শুরু করে কর্মকর্তারাও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব দালালকে প্রশ্রয় দেন। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিয়ম অনুযায়ী, শুধু মোটরসাইকেল অথবা শুধু হালকা মোটরযানের লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ৩৪৫ টাকা। মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযানের লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ৫১৮ টাকা। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ৫ বছর মেয়াদি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ১৬৮০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ব্যাংকে জমা দিতে হয় ২ হাজার ৫৪২ টাকা।
গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিআরটিএ অফিস ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সেবাপ্রার্থীকে দালালের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে। কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ টার্গেটে পরিণত হয়ে এমন খপ্পরে পড়ছেন। যে কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া চার্জের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। দালালদের মাধ্যমে যারা লাইসেন্স করছেন, তাদের মোটরসাইকেলের লাইসেন্সের গুনতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযানের জন্য জন্য দিতে হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১০ হাজার টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে।
এদিকে, রাজশাহীর সরকারি অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যে নানাভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি সেবা পেতে গিয়ে এখানের নাগরিকরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা, দক্ষ ও যথার্থ জনবলের অভাব, সেবা প্রদানকারীর অবহেলা, দালালের দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সেবা কেন্দ্র পর্যন্ত এসব হয়রানির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অনেকেই বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি সেবায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়নি দুর্ভোগমুক্ত সেবা।
উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। বিভাগীয় শহরে একমাত্র উন্নত সেবা প্রদানকারী সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসেন ৮ জেলার রোগী। সামর্থের দ্বিগুণেরও বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন। এতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এরপর রয়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। ২০-২৫টি দলে বিভক্ত হয়ে হাসপাতাল জিম্মি করে রেখেছে হাজারো দালাল। তাদের দাপটে হাসপাতালে সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগী।
রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২৬-২৭শ রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে ১৬শ থেকে ১৭শ রোগী প্রতিদিন ভর্তি হয়। যা সামর্থেরও দ্বিগুণ। কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়েও হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত করতে পারেননি।
এদিকে রাজশাহী মহানগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহ করে রাজশাহী ওয়াসা। এই পানির মান ও ওয়াসার সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহক। মহানগরীর মালোপাড়া এলাকায় রাস্তার উন্নয়ন কাজে পাইপ ফেটে রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছেন সাধারণ মানুষ।
মহানগরীর মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, ওয়াসার পানি কতটা বিশুদ্ধ তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। কারণ প্রায়ই পানি দিয়ে ময়লা বের হয়। মাঝে মাঝে এতোটা নোংরা পানি আসে যে এই পানিতে গোসলও করা যায় না। আর এলাকায় রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোগান্তি বেড়েছে। প্রায় সময়েই পাইপ ফাটছে, আর রাস্তা দিয়ে স্রোত চলছে।
অন্যদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডেও রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। দালালের ফাঁদে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বোর্ড চত্বরে ঘোরাঘুরি করছে দালাল। হাতে কাগজ নিয়ে অজ্ঞাত লোক দেখলেই পিছু নিচ্ছেন। কৌশলে দ্রুত সময়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসও দিচ্ছে তারা।