চড়া দামে বাগান কিনে কম দামে লিচু বিক্রি
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: লকডাউনের কারণে সারাদেশের লিচু চাষীরা বেকায়দায় পড়েছে। অন্যদিকে, লিচুর বাগান কিনেও লিচু বিক্রি নিয়ে শঙ্কাগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লিচু পাঠাতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাগান মালিক ও পাইকাররা। ফলে চড়া দামে বাগান কিনে কমে লিচু বিক্রি করছেন তারা। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০০ একর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এখানে আড়াশ থেকে তিনশ লিচু বাগান রয়েছে। এসব বাগানে তিন জাতের লিচু চাষ করে কৃষকরা। বাদামী লিচু (পাতি লিচু), কমদী লিচু এবং বোম্বাই লিচু (চায়না লিচু)। দাম বোশ পাওয়া এবং আকারে বড় হওয়ায় কদমী লিচু চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের মধ্যে। বিশেষ করে উঁচু ভিটায় এই লিচুর চাষ বেশি হচ্ছে।
সোনারাগাঁয়ের কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এবং শীলা বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান মালিকদের কাছ থেকে চড়া দামে বাগান কিনেছেন পাইকারা। কিন্তু লকডাউন সব হিসাব উল্টাপাল্টা করে দিয়েছে। প্রতিবছর এই সময়ে পাইকারদের ভিড় থাকতো সোনারগাঁওয়ের লিচু কেনার জন্য। এবার সে অবস্থা নেই। যানবাহন বন্ধ থাকায় পাইকাররা বাগানে আসছে না।
লিচু চাষিরা জানাচ্ছেন, যে বাগান গত বছর পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবছর সেই বাগান তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে না। গত বছর একশ কদমী লিচু বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। এবার সেই লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। আর সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু পাতি লিচু বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে ২০০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩০০ টাকায়। এ অবস্থায় যারা বাগান কিনে রেখেছিলেন তারা ব্যাপক লোকশানে পড়েছেন।
লিচু বাগানের ক্রেতা আব্দুল জলিল জানান, অন্যান্য বছর দেশের বাজারে সোনারগাঁওয়ের কদমী ও পাতি লিচুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে চলে আসায় লিচু উৎপাদনকারীরা দাম বেশি পেতো। কিন্তু এবার পাইকার না আসায় তারা যথাসময়ে লিচু বিক্রি করতে পারেনি। যে কারণে স্থানীয় ভাবে কমদামে লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরেক বাগানের ক্রেতা সালাউদ্দিন জানান, লিচুর ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারার বাগান মালিকের কাছ থেকে বাগান কিনে পরিচর্যায় নেমে পড়েন। ফুলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাদুরসহ বিভিন্ন পাখির কবল থেকে লিচু রক্ষা করার জন্য দিন রাত জেগে পাহারা বসানো হয়। ফলে বাগানে খরচ দ্বিগুণ তিনগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাজারজাত করতে না পারায় ঢাকার বাদামতলীর পাইকররা না আসায় কম দামে লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে বাগান থেকে। যে কারণে এবার পাইকারদের মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে।
আরেক পাইকার মোসলেম মীর জানান, প্রতিব্ছরের মতো এবার চারটি বাগান কিনেছি। খরচ পড়েছে ৫ লাখ টাকা। এসব বাগান পরিচর্যা করতে অনেক খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাজারে লিচুর দাম কমে গেছে। যে কারণে আমদের এবার মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।