গার্মেন্টস রপ্তানিতে শ্রেষ্ঠ হতে পারে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। দ্রুত বিকাশমান দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রবয়ন এবং তৈরি পোশাকখাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধানতম উৎসের একটি। চলতি অর্থবছরে এইখাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩ হাজার ৪শ কোটি ডলার। ৫ হাজার কোটির লক্ষ্যমাত্রা আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য।
তবে এই অর্জনের জন্য সংশিষ্ট খাতে বড় ধরনের কিছু গঠনমূলক সংস্কার ও উন্নয়নের প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর কারখানা উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালনায় টেকসই ব্যবস্থা চালু করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর মাধ্যমে পরিচালনা ব্যয়,উৎপাদন খরচ এবং অপচয়ের মাত্রা কমবে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক উদ্যোক্তাই এখন তাদের কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন আশংকা করছেন।
এর মূল কারণ, বিদেশী ক্রেতারা এখন ব্যাপক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত স্বস্তা এবং নিম্নমানের পণ্যের চাইতে পরিবেশ ও কর্মীবান্ধব টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে এমন সব উৎসমুখী হয়েছেন। এদিক থেকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে; ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের নতুন স্থাপিত কারখানাগুলোর টেকসই উৎপাদন ও উন্নতমানের ব্যবস্থা।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণমূলক তথ্য পরিবেশনকারী কোম্পানি গ্লোবাল ডাটার অ্যাপারেল বাজার প্রতিনিধি হান্না আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দূষণমুক্ত ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই। (বাংলাদেশের) কিছু কারখানা এই মান অর্জন করলেও, তার সংখ্যা খুবই কম। বিশ্ববাজারের বড় ক্রেতাদের ধরে রাখতে হলে এর পরিমাণ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।’
২০১৮ সালে বাংলাদেশের ৬৭টি কারখানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিডারশীপ ইন এনার্জি অ্যান্ড ইনভায়রোমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সনদপত্র পায়। কারখানা তৈরির সময় সামাজিক মুল্যবোধ এবং টেকসই ব্যবস্থার মানদ- নিশ্চিত করা হলেই, এই সনদ দেয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের নানাবিধ দিক যেমন; পানি দূষণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং নতুন ব্যবস্থা উদ্ভাবনে সফলতার দিকগুলো আমলে নেয়া হয়। বাংলাদেশের মাত্র ৮টি কারখানা প্লাটিনাম লিড সনদ পায়। অর্থাৎ, হাতেগোণা এই কয়টি কারখানায় সকল মানদ- মেনে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা চালু আছে। উচ্চ ক্রয়সক্ষমতার উন্নত দেশের ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে হলে অন্যান্য কারখানাগুলকেও অচিরেই এই সকল মানদ- মেনে চলতে হবে। দেশে এখন ছোট, বড়, মাঝারি আকারের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।