ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ২৩১৮ কোটি টাকা

১৩ বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন ডিএসইতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত সপ্তাহের সব কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ইতিবাচক। নতুন বছরও ইতিবাচক হবে এমনটাই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের। বিদায়ী সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে দুই হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসই সূচকের সঙ্গে টাকার পরিমাণে লেনদেনও বেড়েছে। আর বিষয়টিকে বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের মতে, গতবছর সূচক কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে, এখন আর কমার সুযোগ নেই। তাই নতুন বছরে পুঁজিবাজার ইতিবাচক হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার সম্মিলিত বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি নতুন বছরে পুঁজিবাজার ইতিবাচক হবে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক বাজারে আস্থা বাড়ানোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি অতীতের সব সমস্যা দূর করে বাজারকে তারা ইতিবাচক করবেন। আর অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যে উদ্যোগ এটি অব্যাহত থাকলে নতুন বছরে বাজারে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএসইর বৈঠকে যে প্রস্তাবনাগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চান বিনিয়োগকারীরা। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা ডিএসইকে যে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। একইসঙ্গে যে দশ হাজার কোটি টাকার ফান্ডের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি দ্রুত বাজারে আনতে হবে। এই ফান্ড বাজারে এলে মুজিববর্ষে পুঁজিবাজার ইতিবাচক হবে ও বাজারে লেনদেন বাড়বে।

জানা যায়, গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন লাখ ৪০ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ডিএসইর বাজার মূলধন দুই হাজার ৩১৮ কোটি টাকা বেড়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে এক হাজার ৩০২ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৩১ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ২২৩ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৪০১ টাকা বা ২০.৭৪ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৭৯ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ টাকার।

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৫ হাজার ১৮২ টাকার। যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮২ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন বেশি হয়েছে ৫৫ কোটি ৯৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকার।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫৯ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বা ১.৪৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০৯ পয়েন্টে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বা ০.১৯ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩২টির বা ৬৫ শতাংশের, কমেছে ৮৬টির বা ২৪ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির বা ১১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর। দুটি কোম্পানির লেনদেন হয়নি।

আপনার মতামত