পদ্মা-মেঘনা খনন করে চলাচল স্বাভাবিক করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাঁদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদী দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করেন। তাই এসব নদীগুলো খনন করে চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নদী খননের কয়েকটি প্রকল্প চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো নদী খনন করা হবে।
বৃহস্পতিবার চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ই-কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যায় ফসলের ক্ষতি, আলু সংরক্ষণের অভাবে ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবিতে কৃষক মিজানুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আলু সংরক্ষণের চেয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আলু দিয়ে অনেক কিছু তৈরি করা যায়। এসব পণ্য দেশীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে। আমরা এখন প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতি দৃষ্টি দেব।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প অনেক সম্ভাবনাময়। চাঁদপুরে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারেন। কারণ পর্যটন শিল্পে নৌ-ভ্রমণ খুবই আনন্দদায়ক। ইচ্ছে করলে জাহাজে করে পরিবারসহ এসে ভ্রমণ করে সহজেই গন্তব্যে চলে যেতে পারবেন। চাঁদপুরে যে পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল তা দেখার জন্য আমরা ছোট বেলায় আগ্রহসহ অপেক্ষায় থাকতাম। চাঁদপুর ঘাটে জাহাজ এলে হাড়িতে করে মিষ্টি আনা হত। পেট চুক্তি খাবার ছিল। তবে জাহাজের হুচাল দিলে খাবার রেখে অনেকে চলে যেত যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, এ উন্নয়ন মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের বলবো- যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যেগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার, তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার। এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আজকের বাংলাদেশ তার দেয়া ঘোষণা মোতাবেক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে সব ধরনের সেবা পাচ্ছে।
‘মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৮ কোটি জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের এই উন্নয়নই তার সরকারের লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলবো, সরকার যা করে যাচ্ছে, তা হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই উন্নয়ন হচ্ছে।