প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পরিবর্তন আসলো বাজেটে

ঢাকা: চলতি জুনের প্রথম দিনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক বাড়ানো ও নতুন ভ্যাট হারসহ বেশকিছু বিষয়ে আপত্তি ও সমালোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। ফলে বিতর্কিত এ বাজেটে হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশ হওয়ার আগে বাজেটে পরিবর্তন আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়। এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পাস হয়।

বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক হার কমানোর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের আলোকে কিছু পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন আরো দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া আরো কিছু পরিবর্তন এসেছে বাজেটে। এগুলো হচ্ছে- কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে একটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে ধ্যান বা যোগ সাধনা আগামী ২ বছর ভ্যাটমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কম্পিউটার, সেলুলার ফোন এবং তার যন্ত্রাংশ এখন দেশে তৈরি হচ্ছে বলে এগুলো ভ্যাটমুক্ত থাকছে।

মোটরসাইকেল শিল্পের ওপর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার হয়েছে।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশ যেসব পণ্য বিনা আমদানি শুল্কে আনে, সেসব পণ্য থাকবে ভ্যাটমুক্ত।

বাংলাদেশে রেফ্রিজারেটর উৎপাদনকারীদের ওপর সম্পূরক শুল্কহার কমে ২০ শতাংশ হবে।

প্লাস্টিক ও গ্লাস ফাইবার নির্মিত এলপিজি কন্টেইনারের আমদানি পর্যায়ে কোনো ভ্যাট থাকবে না। তবে লোহার এলপিজি কন্টেইনারে ভ্যাট থাকবে আগের মতোই।

মোটরসাইকেলের সব যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বর্ধিত শুল্ক করাদি মওকুফ হবে। প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি পর্যায়ে শুল্ক হ্রাস হবে।

সোলার প্যানেলের ওপর যে আমদানি শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা আর থাকছেনা।

তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর ১ শতাংশ বহাল থাকবে। সবুজ কারখানার ক্ষেত্রে আয়কর হার ১০ শতাংশ এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সংসদে কণ্ঠভোটে এ বাজেট পাস হয়। ১ জুলাই শনিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে এ বাজেট কার্যকর হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পরিবর্তিত বাজেটে গণমানুষের ও কৃষকের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সমন্বয় হয়নি বলে মন্তব করেছেন বিশ্লেষকগণ। তারা মনে করেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, তাই কৃষিখাতে অপ্রতুল বাজেট গ্রহণযোগ নয়। এছাড়াও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রতাহার না করলে দেশে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উৎসাহ হারাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন নির্বাহ আরো কঠিন হয়ে পড়বে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত ব্যায় মেটাতে দুর্নীতি ও অপরাধের আশ্রয় নিবে বলে মত প্রকাশ করেন তারা।

আপনার মতামত