গ্রামীণফোনের ঔদ্ধত্ব:রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ!
নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীণফোনের সিংহভাগ শেয়ারের মালিক টেলিনর রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এই নোটিশে ১২ হাজার কোটি টাকার পাওনার বিষয়টি নিয়ে সালিস (আরবিট্রেশন) চাওয়া হয়েছে। নইলে টেলিনর আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে।
সরকারের রাজস্ব বকেয়া পাওনার বিষয়ে সালিশের জন্য গ্রামীণফোন রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠানোর এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণফোন রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, জিপি সিঙ্গাপুরের একটি আইন সংস্থার মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়েছে আরবিট্রেশনে (সালিশ) যাওয়ার জন্য। বিষয়টিকে দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি মনে করি যে এটি খুব দুঃখজনক, বাংলাদেশে ব্যবসা করবে একটি প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ দিয়ে তারপরে তারা আরবিট্রেশনের জন্য চাপ দেবে, এটা বোধহয় কোনোভাবে আমাদের কাছে খুব সহজে গ্রহণ করার মতো অবস্থা না।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এটা বুঝি, ব্যবসা যদি কেউ করে তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে তাদের নানা ধরনের সমস্যা থাকবে। আমাদের দায়িত্ব ফ্যাসিলেটেড করার, আমরা তাদের ফ্যাসিলেটেড করব।
প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোনের কাছে (জিপি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। দাবিকৃত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রদানের জন্য গত ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। ওই চিঠির বিরুদ্ধে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করে ফোন কোম্পানিটি। এতে টাকা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
গত ২৮ আগস্ট আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে গ্রামীণফোন। ওই আবেদন গ্রহণ করে বিটিআরসির চিঠি স্থগিত করে দেয় হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় বিটিআরসি। গত ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ এক আদেশে বলেন, জিপি এই মুহূর্তে কত টাকা বিটিআরসিকে দিতে পারবে- তা জানাতে হবে।
উকিল নোটিশের বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত তা অবহিত করা আছে এবং ফরেন মিনিস্ট্রিসহ সবাই এই বিষয়টি জানে। আমরা আমাদের আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। এই উকিল নোটিশটি নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই। তার কারণটা হচ্ছে, তারা চাচ্ছে আরবিট্রেশন যেন করা হয়। আরবিট্রেশন করার জায়গা দিয়ে তো আমরা উন্মুক্ত হয়েই আছি। কিন্তু বাংলাদেশের আদালতে মামলা থাকলে, আমার তো আদালতের বাইরে আরবিট্রেশন করার কোনো সুযোগ নাই। আমার আদালত যদি আমাকে আরবিট্রেশন করার জন্য হুকুম দেয় আমি আরবিট্রেশন করতে পারব।
টেলিনরের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা এটা নিশ্চিত হয়েছি যে, কোনো দেশে বিজনেস করে সেই দেশের আইন আদালত অমান্য করে দুনিয়ার কোনো জায়গায় গিয়ে অন্য বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের কোর্টে যে অবস্থা আছে, সেই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি আমরা সঠিক পথে আছি এবং আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছে সেই নির্দেশনা বরং আমরা আরও নমনীয় পর্যায়ে যাওয়ার চিন্তা করছি, তার চাইতেও আদালত তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি চমৎকারভাবে দেখিয়েছে। দেশের জনগণের অর্থ জাতীয় সম্পদ এটি আদায় করতেই হবে।