সারাদেশে বিচারাধীন ৩৩ লাখ মামলা

ঢাকা: সারাদেশে বিচারাধীন রয়েছে ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৯টি মামলা। আর ৫ বছর ধরে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে ২ লাখের ওপরে মামলা, নিম্ন আদালতে রয়েছে ৬ লাখের ওপরে। এজলাস ও বিচারক সঙ্কটসহ বেশ কিছু কারণে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে বলে মনে করেন সিনিয়র আইনজীবীরা।

সঙ্কট নিরসনে দ্রুত বিচারক নিয়োগ, অবকাঠামো, আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধাসহ ব্রিটিশ আমলের আইন যুগোপযোগী করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তা না হলে ন্যায় বিচার বাধাগ্রস্থ হবে বলে মনে করেন সিনিয়র আইনজীবীরা।
পৃথক বিচার বিভাগের যাত্রা শুর হয় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ১০ বছর পার হলেও এখনও অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

এজলাস সঙ্কটের কারণে নিন্ম আদালতের অনেক বিচারক পুরো কর্মঘণ্টা বিচার কাজে ব্যয় করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে একই এজলাসে সহকর্মীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে বিচার কাজে অংশ নিচ্ছেন অন্য বিচারক। যার প্রভাব পড়ছে মামলা নিষ্পত্তিতে।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আদালতগুলোতে ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টে চার লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০টি। আর আপিল বিভাগে রয়েছে ১৬ হাজার ৫৬৫টি মামলা। ২০১৬ সালে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭৮টি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে দ্রত মামলা নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়েছেন আইনজীবীরা।

বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে:
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচারাধীন মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি গতকাল সংসদে সরকারি দলের রহিম উল্লাহ’র এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মতে পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রত্যেক আদালত সাক্ষীর সমন জারি নিশ্চিতপূর্বক সাক্ষীগণকে হাজির করে দ্রুততম সাক্ষ্য গ্রহণ, পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল গঠন, প্রতি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন, বিচারকের শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম গ্রহণ, অধিক সংখ্যক বিচারক নিয়োগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, দরিদ্র, ও অসহায় জনগণকে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন, দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে ডিজিটাল কজলিস্ট চালু করণ, এ ডি আর-এর মামলার জট কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৫ সালের ২৯ জুলাইয়ে জারিকৃত ১০ নম্বর সার্কুলার মোতাবেক নি¤œ আদালতে বিদ্যমান মামলাসমূহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, মামলা বা মোকদ্দমায় একবার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে (যৌক্তিক কারণে মুলতবি অপরিহার্য না হলে) সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন (ডে টু ডে) শুনানি অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, তিন বছরের অধিক পুরাতন মামলা বা মোকদ্দমায় সাক্ষ্য গ্রহণকালে শুনানি যৌক্তিক কারণে মুলতবি একান্ত অপরিহার্য হলে যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ততম (বিরতিতে কোনক্রমেই এক মাসে অধিক নয়) পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরাতন মামলা বা মোকদ্দমা শুনানির জন্য গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান মামলাগুলো যথাসম্ভব দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে উদ্যোগী রয়েছে।

আপনার মতামত