নদী ভাঙনে দিশেহারা গৃহহীনরা, এনজিওদের সুদ আদায় ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’
বগুড়া : বন্যা আর নদী ভাঙনে বগুড়ার সারিয়াকান্দি বাঁধের উপর আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে রক্তচোষা সুদখোর এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি। সরকারি ত্রাণ আর মানুষের দয়ায় দুমুঠো খাবার জুটলেও এনজিও ঋণের কিস্তির চিন্তায় দিশেহারা তারা।
এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাবি, অন্তত কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা হোক বানভাসি মানুষের ঋণের কিস্তি। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, মৌখিকভাবে কিস্তি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা পেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বন্যায় বাড়িঘর সহায় সম্বল হারিয়ে ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে লিলি বেগমের ঠাঁই হয়েছে কুতুবপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর। স্বামী দুদু শেখ মাছ ধরার কাজ করলেও ভরা নদীতে না পারছে মাছ ধরতে, না পারছে দিনমজুরের কাজ করতে। এ অবস্থায় নতুন শঙ্কায় রাত কাটছে তার। সপ্তাহ শেষে গাক সমিতির ৮শ টাকার কিস্তি এখন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে সংসারে।
লিলি বেগমের মতো অনেকেই এখন গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, ঠেঙ্গামারা এবং গাক সমিতির ঋণের সুদের জালে বন্দি। বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো থেকে কিছুদিনের জন্য ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবি জনপ্রতিনিধিদের। সারিয়াকান্দি কুতুবপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সরাফত আলী বলেন, যে মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু এনজিও থেকে তারা লোন তুলছে সেই লনে গুলো দেওয়ার মত তাদের এখন কোনো সামর্থ্য নেই।
সারিয়াকান্দি কুতুবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমরান আলী রনি বলেন, যারা কিস্তি তুলছে ক্ষতিগ্রস্তদের সেই কিস্তি তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখতে আহ্বান করছি। অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি নেয়া সাময়িক বন্ধের কথা বললেও সরজমিনে সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের দেখা গেছে কার্যক্রম পরিচালনা করতে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন, ঋণের কিস্তি না নেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, যখন বন্যার পানি নেমে যাবে এবং তারা স্বাভাবিক আয় উপার্জনে ফিরে যাবে তখন তাদের কাছ থেকে কিস্তি নেওয়ার জন্য বলা আছে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো যদি অভিযোগ আসে।
সারিয়াকান্দির উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, ঠেঙ্গামারা, গাকসহ ৮টি সুদখোর এনজিও এবং সরকারের বিআরডিবি, মহিলা সংস্থাসহ ৪টি প্রতিষ্ঠান উপজেলায় দরিদ্রদের মাঝে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যা কবলিত এলাকায় ঋণের কিস্তি তোলা বন্ধ রেখেছে।