গঙ্গা নদীতে মূর্তি,পূজার দ্রব্যাদি ফেললেই জরিমানা

প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দূষণ রোধে এবার গঙ্গা নদীতে মূর্তি, ফুলসহ পূজার দ্রব্যাদি ফেলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ গঙ্গা নদীতে মূর্তি ফেললেই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে৷

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৫টি নির্দেশিকা সম্বলিত একটি তালিকা পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১১টি রাজ্যকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গঙ্গা নদীতে মূর্তি ফালানোর পর মূর্তির কাঠামো যত তাড়াতাড়িই সরানো হোক না কেন, মূর্তির রং বা শোলার গয়না পানির সঙ্গে মিশে যায়। তারপরে ফুল মালা তো রয়েছেই। এর পাশাপাশি আবার লিটার লিটার রং, প্লাস্টার অফ প্যারিস ও টক্সিক সিন্থেটিক দ্রব্যও পড়ে থাকে গঙ্গায নদীতে। যার ফলে গঙ্গা নদীতে দূষণক আরও তরান্বিত হচ্ছে৷বিপন্ন হয়ে উঠেছে জলজ প্রাণীদের অস্তিত্ব।

এদিকে ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা(এনএমসিজি) এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হলি, নানারকম পূজাসহ অন্যান্য পূজাতে ওই ১৫টি নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

মূর্তিতে সিনথেটিক দ্রব্য, সিনথেটিক পেইন্ট, ক্যামিকেল ব্যবহার এবং যে দ্রব্যগুলো পচনশীল নয় তা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

গতমাসে এনএমসিজির কর্মকর্তাদের উত্তরখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়।সেই বৈঠকে গঙ্গা নদীকে বাঁচাতে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়৷ যার মধ্যে ছিল মূতি নদীতে ফালানোর বিষয়টিও৷

বৈঠকের মূখ্যসচিব ওই ১১ প্রদেশকে যে কোনো ধরণের উৎসব শেষ হওয়ার মাত্র সাতদিনের মধ্যে তারা কি কি ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে তার রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এর এক জরিপে দেখা যায়, গঙ্গা নদীর পানি সরাসরি খাওয়ার অনুপযোগী। আবার মাত্র সাতটি জায়গার পানি পরিশোধন করে খাওয়ার উপযোগী করা যায়। উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি খাওয়া ও গোসলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত