হিজাব পরায় ছাত্রীর খাতা আটকে রাখলেন শিক্ষক!

News-Nine24-default

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হিজাব পরে পরীক্ষা দেয়ায় সামিয়া জাহান সুপ্তা নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা আধাঘণ্টা আটকে রাখেন দায়িত্বরত এক শিক্ষক।
এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা আবদুস সালাম কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন।

সুপ্তার বড় ভাই সাদিউল হোসেন সোহাগ জানান, বৃহস্পতিবার তার বোন সামিয়া জাহান সুপ্তা মুখ খোলা হিজাব পরে কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ২০১নং কক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তারাগঞ্জ এইচ এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী সুপ্তা পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষে দায়িত্বরত ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক পলাশ ওই ছাত্রীকে হিজাব খুলে পরীক্ষা দিতে বলেন। কিন্তু ছাত্রীটি হিজাব না খুললে তার পরীক্ষার খাতা আটকে রাখেন। দীর্ঘ সময় সুপ্তা অনুনয়-বিনয় করেও খাতা ফেরত না পেয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে দায়িত্বরত অপর শিক্ষক পলাশকে খাতা ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানান। পরে ওই শিক্ষকের পরামর্শে সুপ্তা চুপচাপ বসে থাকলে প্রায় আধাঘণ্টা পর তার খাতা ফেরত দেন শিক্ষক পলাশ।

এ বিষয়ে শিক্ষক পলাশ বলেন, ওই ছাত্রীর কানে কোনো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তার কানের ওপর থেকে হিজাব সরাতে পরপর তিনবার নির্দেশ দেই। কিন্তু সে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় তার খাতা নিয়ে আটক করি। কিছুক্ষণ পরে সে কানের ওপর থেকে হিজাব সরালে তাকে খাতা ফিরিয়ে দেই।

খাতা আটক করার কোনো বিধান আছে কিনা তাও তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সুপ্তার বড় ভাই সাদিউল হোসেন সোহাগ পরীক্ষা শেষে এর কারণ জানতে চাইলে পলাশ তার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলে জানা যায়।

কলেজ অধ্যক্ষ মো. ছানাউল্লাহ জানান, তিনি কলেজে থাকাকালীন সময়ে তাকে এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। পরে ছাত্রীর বাবা তাকে ফোনে এ বিষয়টি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. ইসমত আরা জানান, ছাত্রীকে কানের ওপর থেকে হিজাব সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। ওই শিক্ষককে এ ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত