সয়াবিন তেলের দামে আগুন, নেপথ্যে কি?

সয়াবিন তেলের দামে আগুন, নেপথ্যে কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম। অভিযোগ রয়েছে, সরকার খোলা তেলের মিল গেটমূল্য নির্ধারণ করে দিলেও মালিকরা তা মানছেন না। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারেও। পাইকারি বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুচরাবাজারেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেটসহ একাধিক বাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

নিউমার্কেটের কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, মিলগেট থেকে তারা যেই দামে তেল কিনেছেন, তার চেয়ে সামান্য বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। তবে, মিল গেটে তেল কেনার পর পরিবহন সমস্যার কারণে সেই তেল আরও ৪-৫ দিন সেখানে পড়ে থাকে। এতেও বাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব পড়ে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কথা স্বীকার করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করছেন।

এই মার্কেটের পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোসেন স্টোরে নিয়মিত কেনাকাটা করেন মাহবুব ফারুক। তিনি বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিনে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। যেখানে একসঙ্গে ৫ লিটার করে তেল কিনতাম, এখন ২ লিটার করে কিনছি। তেল না খেয়ে তো থাকা যাবে না। প্রতিদিন এই দাম বাড়ার বিষয় দেখার কি কেউ নেই?’

হোসেন স্টোরের বিক্রেতা আরিফ বলেন, পাইকার ও তেল কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়াচ্ছে। প্রতি বছর শীত এলেই দাম বাড়ায়। তবে, এবার বেশি দাম বেড়েছে। সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। তারা বেশি লাভ করার জন্য দাম বাড়াচ্ছে। আমাদের যত সমস্যা। আমরা বেশি দামে কিনি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, মিল মালিকরা যদি কম দামে তেল বাজারে না ছাড়েন, তাহলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। বেশি দামে কিনলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। এই দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা বন্ধে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার ম-ল বলেন, বাজারে ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে রাজধানীসহ সারাদেশে তদারকি অব্যাহত রয়েছে।’

প্রতিদিন ভোজ্য তেলের এই দাম বেড়ে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর দৈনিক পণ্য মূল্য তালিকায়ও। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩.২৮ শতাংশ।
জানতে চাইলে টিসিবি চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে (পিএস) হুমায়ূন কবীর জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববাজার থেকে ক্রুডওয়েল পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও অনেক বেশি। প্রতিটন বর্তমানে ৪ থেকে সাড়ে চারশো ডলার বেশি দাম দিয়ে আমদানি করতে হচ্ছে। এই কারণ দেখিয়ে তেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশে ভোজ্য তেলের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়েছেন। তেলের দাম কোনোভাবে ৯০-৯১ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।’ সরকারের পক্ষ থেকে তিনি তেল ব্যবসায়ীদের কাছে অস্বাভাবিক এই মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছেন।