সার্বিয়ার পার্লামেন্ট ভবনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ

সার্বিয়ার পার্লামেন্ট ভবনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার নাম দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় লকডাউন জারির প্রতিবাদে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়লে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

মঙ্গলবার দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রাণহানি এবং আক্রান্ত বৃদ্ধির ঘটনাকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভুসিক ফের কঠোর লকডাউন আরোপের ঘোষণা দেয়; যা দেশটির হাজার হাজার জনগন মেনে নিতে পারেনি। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে তারা।

লকডাউনবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ক্রমান্বয়ে সহিংস হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের অনেকেই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়তে সক্ষম হলেও দাঙ্গা পুলিশের ১৫ মিনিটের ঝটিকা অভিযানে সংসদ ভবন খালি হয়ে যায়। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি বলছে, বেলগ্রেডে সার্বিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে দেশটির হাজার হাজার মানুষ লকডাউনের বিরোধিতায় বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, ডিম ছুড়ে মারে। কিছু কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের সঙ্গে।

এপি বলছে, বেলগ্রেডে দেশটির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ের সামনেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের একাধিক যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

সার্বিয়ার পুলিশের পরিচালক ভ্লাদিমির রেবিক বলেছে, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে। তবে ঠিক কতজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে সেব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছুই জানায়নি সে।

মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সার্বিয়ায় নতুন করে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস;  এছাড়া নতুন করে আরও ২৯৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭১৯ জনে।

প্রেসিডেন্ট ভুসিক জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বলেছে, দেশের করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক আকার ধারণ করছে। বেলগ্রেডের প্রায় সব হাসপাতাল এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। এছাড়া নিস, নোভি পাজার, জেমুন এবং অন্যান্য শহরের হাসপাতালেও দ্রুত শয্যা শেষ হয়ে যাচ্ছে।